সিসি নিউজ: এনজিও কর্মী ও এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে একটি বাল্যবিয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের কাগজিপাড়া গ্রামে।
সূত্র জানায়, ওই গ্রামের মানিক হোসেনের মেয়ে মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী নাজরিন আকতারের (১২) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সাদেকুল ইসলামের সাথে। সে একই গ্রামের দিন মজুর শহিদুল ইসলামের ছেলে।
সূত্র মতে, তাদের এ সম্পর্ক ৪ মাস গড়ালেও বিয়ের ব্যাপারে অনীহা দেখিয়ে আসছিল সাদেকুল। এ অবস্থায় গত ১০ নভেম্বর বিকাল ৩টায় হটাৎ করেই সাদেকুলের বাড়ীতে হাজির হয় নাজরিন। সে সাদেকুলের পরিবারের কাছে বিয়ের দাবি জানাতে থাকে। এ সময় পাড়া প্রতিবেশীরা ভিড় করে সাদেকুলের বাড়ীতে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও মহিলা সদস্য মমতা বেগম। পরে ওই দিন রাতেই বিষয়টি সুরাহা করতে ইউপি সদস্যদের মধ্যস্ততায় এক শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়েটির পরিবার শর্তসাপেক্ষে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ছেলেটির অভিভাবকরা আংশিক শর্ত পূরণের মাধ্যমে বিয়েতে রাজি হন। তবে বৈঠক চলা অবস্থায় রিইব নামের একটি এনজিও এর দলনেত্রী ফেন্সি বেগমের নেতৃত্বে শতাধিক নারীর একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন এনজিও কর্মী নারী নেত্রী কামরুন নাহার ইরা। তিনি শালিসে অংশগ্রহণকারী সবাইকে বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে বলেন। এতে সবাই সম্মত হলেও দ্বি-মত পোষণ করেন মেয়ের নিকটাত্মীয়রা। ফলে ভন্ডুল হয়ে যায় সমঝোতা বৈঠক।
পরে কামরুন নাহার ইরা তার লোকজন সহ নাজরিনকে মামার বাড়ী পৌছে দিতে গিয়ে মামার পরিবারের সদস্যদের হাতে আক্রান্ত হন। তারা লাঠিসোঠা নিয়ে তেড়ে এসে গ্রামবাসীর সামনে বেধড়ক পেটায় নাজরিনকে। এতে সে ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
পরে গ্রামবাসী নাজরিনকে উদ্ধার করে নারী নেত্রী ইরার হেফাজতে দেন। তিনি তাকে রাতের আশ্রয়ের জন্য নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
কামরুন নাহার ইরা অভিযোগ করে বলেন, রাতেই আমি বাল্যবিয়ের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ কৃর্তপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি।
তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরদিন ছেলে-মেয়েকে নিয়ে পরিষদে আসতে বলা হয়। আমরা অটো রিকসা করে তাদের নিয়ে পরিষদে যাওয়ার পথে আবারও নাজরিনের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা আক্রান্ত হই। এতে নাজরিন ও সাদেকুল সহ ১০ জন আহত হয়। গ্রামের একাধিক সূত্র জানায়, পুরো বিষয়টি বার বার সংশ্লিষ্টদের জানালেও সহযোগিতার জন্য তারা কেউ এগিয়ে আসেনি। পর দিন রাতে ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে দ্বিতীয় দফা শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি অপ্রাপ্ত বয়স্ক প্রেমিক জুটিকে স্ব-স্ব পরিবারের জিম্মায় তুলে দেন।
এ প্রসঙ্গেঁ সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ের সংবাদ পেয়ে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে অবহিত করি। পরে জেনেছি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছেন।