• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

চোখ ওঠা রোগ

indexস্বাস্থ্য ডেস্ক : চোখ ওঠা রোগ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দু’ধরনের জীবাণুর দ্বারাই হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ চোখ ওঠা রোগ ভাইরাসের আক্রমণের কারণেই হয়ে থাকে। সাধারণত এডেনো ভাইরাস দ্বারা কনজাংটিভা আক্রান্ত হওয়ার কারণেই এ রোগটি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।
চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণগুলো হলো-
* স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া ও পরিবেশে বসবাস এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ।
* বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকলে ও ঠাণ্ডা-গরম এবং প্রকৃতিতে বাতাসের প্রবাহের ঘন ঘন পরিবর্তনে চোখ ওঠা রোগে আক্রান্তের প্রবণতা বেড়ে যায়।
* দরিদ্র জনগোষ্ঠী যারা অপুষ্টিতে ভোগে তারা এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
* অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ যেখানে আলোবাতাস পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না এরকম স্থানে বাস করলে এ রোগ হতে পারে।
* অন্যান্য ভাইরাস যেমন- মিজেলস (হাম), রুবেলা অথবা ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদিতে সংক্রমিত হলেও চোখ ওঠা রোগ হতে পারে।
* মলত্যাগের পর ভালোভাবে হাত পরিষ্কার না করলে।
উপসর্গ :
চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর যে উপসর্গগুলো দেখা যায় তা হলো-
* চোখের ভেতর লাল হয়ে যাওয়া।
* চোখ দিয়ে পানি পড়া।
* চোখে অস্বস্তিকর অনুভূতি। যেমন- খচখচে অনুভব হওয়া।
* ভাইরাসজনিত কারণে চোখ ওঠা রোগ হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর পাতলা পায়খানাও হতে পারে।
* এডেনো ভাইরাস দ্বারা সংক্রমণের ফলে এ রোগ হলে কখনও কখনও কানের পেছনের লসিকাগ্রন্থি ফুলতে পারে।
প্রতিকার :
এ রোগে আক্রান্ত হলে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের দিকেই বেশি জোর দিতে হবে। এ রোগের ভাইরাসগুলোর বেশিরভাগই খুব ছোঁয়াচে। সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে, রোগীর ব্যবহার্য জিনিসপত্র ও রোগীকে স্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। তবে এ ভাইরাসগুলো যেহেতু পায়খানার সঙ্গে শরীর থেকে নির্গত হয় তাই পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতাই এ রোগের প্রধান সমাধান। এ রোগ হতে মুক্তি পেতে চাইলে কিছু নিয়মকানুন মানতে হবে। যেমন- পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, মলত্যাগের পর ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে, অন্যের জামাকাপড় বিশেষ করে গামছা, তোয়ালে ব্যবহার না করা ইত্যাদি। সাধারণত পরিষ্কার পরিবেশে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই এ রোগ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। চোখ ওঠা রোগটি ছোঁয়াচে তাই এ রোগে আক্রান্ত রোগী থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকতে হবে। পরিবারের কেউ এ রোগে আক্রান্ত হলে তার চোখে কালো চশমা পরিয়ে দিতে হবে। আক্রান্ত রোগীর সেবা করার সময় সেবাকারীকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে তাকেও কালো চশমা ও মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। চোখ ওঠা রোগীর পোশাক গরম পানিতে পরিষ্কার করে রোদে শুকালে জীবাণু মরে যায় তাই রোগীর সব জামাকাপড় গরম পানিতে ধুতে হবে। বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগের সময় যখন একত্রে অনেক মানুষকে একসঙ্গে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বাস করতে হয়, তখন তাদের এসব ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কে সচেতন করলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে ঘরোয়া চিকিৎসায় ৫/৬ দিনের মধ্যে এ রোগ ভালো না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জীবাণুনাশক চোখের ড্রপ ও প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক চোখের ড্রপ বা মলম ব্যবহার করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ