
রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্তে নারীসহ ৪ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে চর আষাড়িয়াদহ সীমান্তে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শুক্রবার সকালে তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়। বিএসএফ এর হাতে আটককৃতরা হলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর কানাপাড়া গ্রামের ইদিল হোসেনের ছেলে দিলদার হোসেন (২০), আব্দুল জলিলের ছেলে বাবু (২২) ও আব্দুল মালেকের ছেলে শরিফ (৩০)। তবে আটককৃত নারীর নাম জানা যায় নি। তার বাড়ি মানিকচক গ্রামে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়রা জানান, চর আষাড়িয়াদহ গ্রামের ৬ জন সীমান্ত এলাকায় কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন। এসময় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলা থানার লবনগোলা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশি ভূখন্ডেপ্রবেশ করে। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদের ওপর লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। এসময় দুইজন লাঠির হামলায় আহত হয় এবং দুইজন পালিয়ে আসলেও এক নারীসহ ৪ জনকে লবনগোলা ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।
আটককৃতদের আত্মীয় স্বজনরা জানান, ৪ জনকে লবনগোলা ক্যাম্পে রেখে অমানবিকভাবে নির্যাতন চালায় বিএসএফ। শুক্রবার সকালে আটককৃতদেরকে মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলা থানায় সোপর্দ করেছে বিএসএফ।
এলাকাবাসী জানায়, ৫২৩ সীমান্ত পিলারের কাছে বাংলাদেশ ভূখন্ডে কৃষি জমিতে ৬ জন কাজ করার সময় বিএসএফের টহল দল বাংলাদেশ ভূখ-ে প্রবেশ করে তাদের ওপরে লাঠি দিয়ে হামলা করে। আহত অবস্থায় পালিয়ে আসা চর কানাপাড়া গ্রামের এন্তাজ আলীর ছেলে কালু (৩২) ও কামরুলকে (৩০) স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বিএসএফের হাতে ৪ জন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃতদেরকে ফেরত আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) স্থানীয় ফাঁড়িকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ৩৭ বিজিবি ব্যাটলিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল আনোয়ার-উল আলম বলেন, আটককৃতদের ফেরত আনার ব্যাপারে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশিদের আটক করেনি বলে দাবি করেছে।
তবে এ ব্যাপারে বিএসএফ’র বক্তব্য, ভারতীয় ভূখন্ডে প্রবেশ করায় ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করেছে।