রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দিনমজুর আঃ মোত্তালেব (৫০) কে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় ওই দিনমজুরের স্ত্রী রওশনারা বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে ফরিদ মিয়াকে প্রধান আসামী করে ১২ জনের নামে রাজারহাট থানায় হত্যা চেষ্টা অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নাজিমখান ইউপি’র মনিডাকুয়া এলাকায়।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, মনিডাকুয়া এলাকার ফারাজি গ্রামের দিনমজুর ৫ সন্তানের জনক আ. মোত্তালেব (৫০) এর সঙ্গে পার্শ্ববতী আবু তালেবের দাঙ্গাবাজ পুত্র ও একাধিক মামলার আসামী ফরিদ মিয়া (৩৫)গংদের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্বসহ মামলা চলে আসছে। এরই সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আ. মোত্তালেব নাজিমখান বাজার থেকে বাইসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে মামলার ৩নং আসামী সিদ্দিকুলের বাড়ী সংলগ্ন পৌঁছা মাত্র পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা ফরিদ গংরা দিনমজুর মোত্তালেবকে হত্যার উদ্দেশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারী কুপিয়ে মৃত ভেবে সটকে পড়ে আসামীরা। পরে পার্শ্ববর্তী লোকজন মোত্তালেবকে গুরুত্বর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে নিলে রাতেই চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। গত তিনদিন ধরে আব্দুল মোত্তালেব রংপুর হাসপাতালের ৩১ নং ওয়ার্ডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। মামলার বাদী রওশনারা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, সে বেঁচে থাকলেও সারা জীবন পঙ্গু হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ৫ ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কিভাবে জীবন চলবে এ চিন্তায় সে এখন বাকরুদ্ধ। এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত লোম হর্ষক। তদন্ত পূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গত রাতেই মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে এবং আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যাহার মামলা নং-২১, তাং-২৮-১১-২০১৪ ইং। বর্তমান ওই দিনমজুর পরিবারটির সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে আসামীরা বাদীকে অব্যাহত হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে।