• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

লতিফ সিদ্দিকীর মুক্তি চাইব

Masudমাসুদ মজুমদার : অজ্ঞতা কত বড় অভিশাপ হতে পারে তার অন্যতম প্রমাণ আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। দম্ভ, অহমিকা এবং অহংকার মানুষকে কতটা কঠিন ও বিব্রতকর বাস্তবতার মুখোমুখি করে তারও প্রমাণ তিনি। ব্যক্তিগতভাবে সিদ্দিকী পরিবারের প্রতি এক ধরনের সমীহ বোধ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় থেকে জাগ্রত ছিল। সেই সমীহবোধে ধস না নামলেও সেটা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। মানুষের কিছু বড় দোষ আল্লাহ সহ্য করেন না। এটা আল্লাহর প্রতীকার্থে ‘সম্ভ্রম’ নিয়ে টানাটানির সাথে তুল্য।

দোষে গুণে মানুষ নিজস্ব মানবিক দুর্বলতা, রিপুর তাড়না ও শয়তানের ফাঁদে পা দেয়ার কারণে নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনে। নিজের অজান্তেই নিজের জন্য পতনের গর্ত খোঁড়ে। মানুষকে কত নাজুক ও অসহায়ভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, কত সীমাবদ্ধতা তাকে তাড়িয়ে ফেরে, কত রকমের পরীক্ষায় তাকে পড়তে হয়, কত জ্বরাগ্রস্ততা তার পিছু নেয় তার কোনো ইয়ত্তা নেই। তার ওপর জন্ম-মৃত্যুর বাগডোর সৃষ্টিকর্তার হাতে। ভাগ্যের ভালো মন্দ তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন। ইজ্জত তিনি দেন, তিনিই কেড়ে নেন। পবিত্র কুরআনে অসংখ্যবার মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন- কিভাবে তিনি জীবন দান করেছেন, কত অনিশ্চিত ও স্পর্শকাতরতায় ভরা তার ইহকালীন জীবন।

একজন প্রজ্ঞাবান আলেম ওয়াজে বলতেন- দু’বার পাতলা পায়খানা হলে যে মানুষটির ঠিকানা হয় বিছানায়, তার এত দুর্বিনীত হওয়া কি সাজে? এ দেশের সুফি-দরবেশ এবং মুনি-ঋষীরা বলেন, ‘দম ফুরালেই ঠুস’। একজন শিশু এবং একজন বৃদ্ধের দিকে তাকালেই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিরহস্য বোঝা সম্ভব। মানুষের অসহায়ত্ব বোঝার জন্য নিজের দিকে তাকানোই যথেষ্ট, আর সৃষ্টিবৈচিত্র্য বোঝার জন্য জমিনে বিচরণ ও সফরের কোনো বিকল্প নেই।

আল্লাহ সন্তানসন্ততিকে দৃষ্টি জুড়ানো বিনোদনের উপকরণ বলেছেন, আবার এই সন্তানসন্ততিকে নিজের ঈমানের পরীক্ষাও বলেছেন। আমি জানি না, লতিফ সিদ্দিকী এসব বিষয়-আশয় নিয়ে কখনো ভেবেছেন কি না। তার ধর্মানুরাগী আব্বার রূহকে তিনি শান্তিতে থাকতে না দিয়ে কষ্টে ফেললেন কি না। তবে তার বক্তব্য প্রমাণ করে, বই সংগ্রহ করা তার হবি হলেও বই পড়া তার ধাতে নেই। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব এখন বিশ্বজুড়ে পঠিতব্য একটি বহুল আলোচিত বিষয়। ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট, কুরআন ও প্রচলিত বাইবেল সাধারণ পাঠকও পড়ে থাকেন। ইতিহাসজ্ঞান যেকোনো রাজনীতিবিদের জন্য অবশ্য পাঠ্য বিষয়। অথচ হজ নিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য সাধারণ ইতিহাসজ্ঞানের ধারেকাছেও নেই। তিনি কি কখনো ভেবে দেখেননি, প্রতি ওয়াক্ত নামাজে কেন হজরত মোহাম্মদ সা: ও মিল্লাতের পিতা হজরত ইবরাহিম আ:-এর জন্য দরুদ ও দোয়া পাঠ করা হয়। কেন তাদের পরিবার আর স্বজনদেরও একই দোয়ায় শামিল করা হয়। তিনি কি জানেন না, সব নবী-রাসূল আমাদের নবী-রাসূল। ইহুদি খ্রিষ্টানদের নবীও আমাদের নবী। যদিও আমাদের নবীকে তারা না মেনে অজ্ঞ থেকে যাচ্ছেন।

ধর্ম-কর্ম অনেকেই করতে পারেন না কিংবা করেন না, কিন্তু ন্যূনতমটুকু জানেন না- এই অভিজ্ঞতা নতুন না হলে সিদ্দিকী পরিবারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত ছিল না। এটা যেমন নিজের আগ্রহের বিষয়, তেমনি আল্লাহর হেদায়েত দেয়ার বিষয়ও। এই ক্ষেত্রে তার অজ্ঞতা কত বড় অভিশাপ হয়ে এলো সেটা পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব। আল্লাহর নবীকে মক্কার কাফের-মোশরেকরা ভালোভাবে জানত, বিশ্বাসও করত। তাঁর সততা, নিষ্ঠা, সত্যবাদিতা, চারিত্রিক মাধুর্য নবী হওয়ার আগেই আল আমিন হিসেবে সর্বজনবিদিত ও স্বীকৃত ছিল। সেটা আবু জেহেল, আবু লাহাবও জানত এবং মানত। তারা তাঁকে আল্লাহর নবী মানতে চায়নি। তাই ‘আবদুল্লাহর বেটা’ সম্বোধন করত, যা একজন মুসলমান কল্পনাও করে না। হোদায়বিয়ার সন্ধির প্রাক্কালে তারা ‘আল্লাহর রাসূল মোহাম্মদ’ মানতে আপত্তি দিয়েছিল। তারা ‘আবদুল্লাহর বেটা’ লিখতে বাধ্য করেছে, যা সাহাবিরা কাটতে রাজি ছিলেন না। রাসূল সা: নিজের হাতে তা কেটে দিতে উদ্যোগী হয়ে জানতে চাইলেন কোন জায়গায় শব্দটি আছে। কারণ নবী ছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক অক্ষর জ্ঞানহীন। যে সত্যটি খ্রিষ্টান মার্টিন লিংস, গির্জার নান ক্যারেন আর্মস্ট্রং ও মাইকেল হার্টের মতো ‘দি হান্ড্রেডের’ লেখক বুঝতে পারলেন, আবু লাহাব ও আবু জেহেলের মতো বুঝতে পারলেন না আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এটা ইচ্ছাকৃত অজ্ঞতা, না জেদ তা শুধু তিনি এবং তার সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারেন।

কষ্ট লাগে, হৃদয়ের রক্তক্ষরণটা তখনই বাড়ে, সুযোগ ও সময় পাওয়ার পরও সিদ্দিকী তার ভুল সংশোধন করলেন না। সত্যটা উপলব্ধি করতে চাইলেন না। উল্টো জেদে তিনি এতটা অহমিকা প্রদর্শন করলেন, যা যেকোনো দুর্বল ঈমানের মুসলিমকেও আহত না করে পারেনি

একটি নির্দিষ্ট সময় মেপে তার দেশে ফেরার বিষয়টি পরিকল্পিত হলে মন্তব্য করব না। স্বদেশে ফিরে সত্যের ও ুব্ধ জনগণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অনুশোচনায় দগ্ধ হওয়ার জন্য হলে আমি তার মুক্তি চাইব। যদি তিনি ভুল স্বীকার করে সত্যে প্রত্যাবর্তনের শর্তটি পূরণ করেন তাহলে আমি তার মুক্তি চাইব । দুর্ভাগ্য, তিনি জেল গেটে মাথা নোয়াতে চাননি। অথচ নিজে গিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালতে তাই করতে বাধ্য হবেন। অথচ মহান আল্লাহ যিনি তার জন্ম-মৃত্যুর মালিক, আখেরাতের আদালতের সেই প্রভুর দরবারে তিনি আত্মসমর্পণ করতে এত দ্বিধায় পড়লেন। আল্লাহ কি তার ইন্দ্রিয়গুলোর ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন। এত দিন জানতাম একজন সাধারণ বিশ্বাসীও আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে মাথা নত করতে চায় না, বিপরীত অবস্থানে দেখলাম সিদ্দিকী পরিবারের এই আলোচিত-সমালোচিত মানুষটিকে।

আগেই বলেছি, সিদ্দিকী পরিবারের প্রতি আমার মমত্ববোধ আসমান ছোঁয়া। আবার এই মুহূর্তে ক্ষোভের পরিমাণটাও আসমান-জমিনজুড়ে। মুক্তিযুদ্ধে সিদ্দিকী পরিবারের দু’সন্তানের বীরত্বগাথা খুব গভীরভাবে জানি। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকী যখন নিজের ওপর নিজেই জুলুম করে বসলেন, তখন ক্ষোভে দুঃখে নিজের আঙুল কামড়েও সান্ত্বনা খুঁজে পাইনি। তার বক্তব্যের বিরুদ্ধে গণক্ষোভের বহিঃপ্রকাশটা তিনি অনুমান করতে পারেননি। তাই তিনি নেত্রীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে মাথা নুইয়ে বাঁচতে চাইলেন। অথচ আরশের প্রভুর প্রতি ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেও ক্ষমা চাইবার সুযোগ গ্রহণ করলেন না। তার অনুজ বুদ্ধিমান বটে। তিনি সপরিবারে জনগণের ও মিডিয়ার সামনে এসে ভাইয়ের জন্য উম্মাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন। দেশে ফিরে লতিফ সিদ্দিকী আদালতে ঢুকবার সময় জুতা মিছিল দেখেছেন, জেল গেটে সংুব্ধ মানুষের চোখের ভাষা নিশ্চয় বুঝেছেন। পুলিশ ভ্যানে তার ছবি, কাতর চাহনি, থানায় আত্মসমর্পণের দৃশ্য ব্যথাতুর করেছে কিন্তু তার প্রতি সংবেদনশীল করেনি। কারণ, তিনি মানুষের অনুভূতিকে অবজ্ঞা করেছেন। আলেমদের তওবার আহ্বান ধৃষ্ঠতার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

লতিফ সিদ্দিকী ক্ষমতার রাজনীতির বরপুত্র। তার রাজনৈতিক পাপ, দুর্নীতির অভিযোগ, আরো আরো বাড়াবাড়ি করে থাকলে তা আদালতে বিচার্য। আমরা শুধু আদালতে আখেরাতের ব্যাপারে তাকে সতর্ক করে অনুরোধ করব, আপনার ভুলের স্বীকৃতি দিন। সেটা প্রকাশ্যেই। ভুলের মাত্রা উপলব্ধি করুন। সাধ্যমতো ভুলের কাফফারা দিন। ভবিষ্যতে আর এমন ভুল না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে ভুল না করার অঙ্গীকার করে আল্লাহর দরবারে সামর্থ্য কামনা করুন। দেশের মানুষ, আলেম ওলামা ও মুসলিম উম্মার কাছে দোয়া চান। আল্লাহ পরম দয়ালু, রহমান রহিম। তিনি ক্ষমার দরিয়া। রহমতের একমাত্র আধার। তওবা তিনি পছন্দ করেন। বান্দাহর দুর্বিনীত আচরণকে যেমন মেনে নেন না, তেমনি বিনয়ীর হাতকে খালি ফেরতও দেন না। আমরা কথিত আধুনিক শিক্ষিত মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সনদ পেয়েছি। আলেম-ওলামাদের মতো দীনের সমঝ ও জ্ঞান আমাদের নেই। তবে ইতিহাস ও আইনের ছাত্র হিসেবে দৃঢ়তার সাথে বলব, আপনি মিল্লাতের পিতা হজরত ইবরাহিম, তাঁর সন্তান হজরত ইসমাইল আ: ও হজরত হাজেরার মতো মহীয়সী নারীর ইতিহাসটুকু পড়ে দেখেননি। ভুলটা আপনার অজ্ঞতার। বাড়াবাড়িটা আপনার অহমিকার।

আপনি তাবলিগ সম্পর্কে বলেছেন- তাতে কেউ কেউ কষ্ট পেলেও সবাই পায়নি। জামায়াত-শিবির সম্পর্কে আপনার অবস্থান স্পষ্ট। এগুলো দল বিশেষ। তাদের ব্যাপারে আপনার নিজস্ব মত থাকতেই পারে। তাই বলে আপনি ইসলামের মৌলিক বিষয় হজ সম্পর্কে ভুল তথ্যনির্ভর অজ্ঞতা প্রদর্শন করে বাহবা পেতে পারেন না। নিন্দা ও ঘৃণার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেন না। জয় সম্পর্কে আপনি খোলাসা করে কিছুই বলেননি, তবে প্রশ্নবিদ্ধ করে আপনি নিজের রাজনীতির ওপর থুতু ছিটিয়ে নিজের গায়েই মেখেছেন- এর এখতিয়ারও আপনার আছে। আপনার নেত্রী কিভাবে নিয়েছেন সেটাও আপনাদের বিষয়। তবে নিন্দুকেরা বলে আপনার ওপর দলীয় শাস্তি আরোপ ধর্মের জন্য নয়, জয়কে নিয়ে বক্তব্য দেয়ার জন্য। কিন্তু দেড় শ’ কোটি মুসলিম উম্মাহর সদস্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে আপনি সংবিধান, প্রচলিত আইন ও সাধারণ শিষ্টাচারের সীমাও অতিক্রম করে ফেলেছেন।

আওয়ামী লীগ আপনাকে নিয়ে রাজনীতি করেছে নাকি কুৎসিত ব্যবহারের খেলায় আপনাকে উপাত্ত বানিয়েছে- সেটা সময়ই বলে দেবে। আপনিও রাজনীতির উপাত্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকলে সেটাও সময় ঠিকই জানিয়ে দেবে। আমরা যারা আপনার ও আপনার পরিবারের সুহৃদ তারা আপনাকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখতে চাই। ধূমায়িত ক্ষোভ ও অপেক্ষমাণ ঝড় থেকে আপনাকে নিরাপদ দেখতে চাই। সর্বোপরি চাই অনুশোচনার আগুনে দগ্ধ একজন মানুষ হিসেবে। মোরতাদ বা ধর্মদ্রোহীর অভিযোগমুক্ত একজন নিষ্ঠাবান বাঙালি মুসলমান হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ানো লতিফ সিদ্দিকী দেখতেই আগ্রহী। যেখানে আপনার পিতৃ প্রদত্ত নামের অর্থ ও পারিবারিক টাইটেলেরও সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যাবে। সিদ্দিক বিশ্বাসের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনকারী ইসলামের প্রথম খলিফার জন্য মহানবী প্রদত্ত খেতাব, যার সাথে আল্লাহর রহমতও সংমিশ্রিত ছিল।

এখন আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে- আপনি আবু লাহাব, আবু জেহেলের তালিকায় নাম লেখাবেন। ফেরাউন-নমরুদের মতো জমিনে বিচরণ করবেন, সালমান রুশদি, দাউদ হায়দার, আলাউদ্দিন কিংবা তসলিমার তালিকায় যোগ হবেন। নাকি আরশের প্রভুর কাছে আত্মসমর্পণ করে জাতীয় কবি নজরুলের মতো সাহসী হয়ে উঠবেন।

উৎসঃ   নয়া দিগন্ত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ