আজ ৪ ডিসেম্বর। দেশের সব জাতীয় পত্রিকায় চোখে পড়ার মত একটি খবর হচ্ছে এরশাদ দলীয় মন্ত্রীদের পদত্যাগ প্রসঙ্গ। কারণ জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের পদত্যাগের বিষয় নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। গতকাল বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ দূত রংপুরের পল্লি নিবাস বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা নজিরবিহীনভাবে একই সাথে বর্তমান সরকারে ও বিরোধী দলে আছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের এই দিনেই (০৪ ডিসেম্বর’১৩) নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা জাতীয় পার্টির ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন এইচ এম এরশাদ। সেদিন বিকেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের বারিধারার বাসভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান তিনি। ওই দিনই জাপার মন্ত্রী-উপদেষ্টারা পরের দিন বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করবেন বলে জানান জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।
সে অনুসারে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেওয়া জাতীয় পার্টির জি এম কাদের, রুহুল আমিন হাওলাদার, মুজিবুল হক চুন্নু ও সালমা ইসলাম দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর’১৩) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার গণমাধ্যমকে জানান। এইচ এম এরশাদের বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে এ সংবাদ সম্মেলনে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘গতকাল পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ আমাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। তিনি এ নিয়ে দলের সবার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিদেশ থেকে ফিরলে দলের চেয়ারম্যান আমাদের পদত্যাগপত্র তার কাছে জমা দেবেন।’
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদেরের পদত্যাগপত্র এরশাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে- রুহুল আমিন হাওলাদার এমন দাবি করলেও সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে জি এম কাদের পতাকাবাহী গাড়িতে প্রেসিডেন্ট পার্কে যান। এরপর সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় জি এম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি এখন তার পদত্যাগপত্র এরশাদের কাছে জমা দিয়েছেন।’ রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী সাবেক ফার্স্ট লেডি রওশন এরশাদ কিছুক্ষণের মধ্যে এখানে এসে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। আমাদের বাকি দুজনও (পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও নারী উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন বাবলু) এরশাদ সাহেবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।’ জাতীয় পার্টির মহাসচিব আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি চায় দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। আমরা রক্তাক্ততা দেখতে চাই না।’
এর আগে সেদিন দুপুরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রুহুল আমিন হাওলাদার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী রওশন এরশাদ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র না দিয়ে তারা চলে যান।
তবে শেষ অবধি নানান নাটকীয়তার মধ্যদিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারে থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বর্তমান সরকারে ও বিরোধীদলে অবস্থান করছে এরশাদের জাতীয় পার্টি। এরমধ্যে সরকারের এক বছর পূর্তিকে সামনে রেখে আজ ০৪ ডিসেম্বরই আবার সংবাদ শিরোনামে আছে এরশাদমন্ত্রীদের পদত্যাগ প্রসঙ্গ।