সিসি ডেস্ক: আবুধাবির সমুদ্র সৈকতে ডুবন্ত চার শিশুকে বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশি গৃহকর্মী সাফিয়াকে মরণোত্তর সম্মান জানিয়েছে দুবাই টিভি। গৃহকর্মী সাফিয়া মারা যাওয়ার পর তার উদ্ধার করা ওই চার শিশুর নতুন জীবন ফিরে পাওয়া উপলক্ষে দুবাই টিভি এ অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থাপক বলেন, মনিবের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে সাফিয়া আত্মোৎসর্গ করেছেন।
উপস্থাপক সাফিয়ার ঘটনাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আর রাহমানের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন (‘হাল জাজাউল এহসান ইল্লাল এহসান’) অর্থাৎ সৎকাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ছাড়া আর কী হতে পারে ?
উপস্থাপক আরও বলেন, সাফিয়ার আত্মত্যাগের এই ঘটনা আরব আমিরাতে গৃহকর্মীদের বিরুদ্ধে বিরাজমান অভিযোগগুলোর বিপরীত চিত্রই উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে চার শিশুর অভিভাবকরা জানান, আরব আমিরাত প্রবাসী সাফিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই চার শিশুর একজনের পরিবারে গৃহকর্মীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রসঙ্গত, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিদেশি গৃহপরিচারিকাদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন ও গৃহকর্মীদের হত্যাসহ নানা অপরাধের কাহিনী খুবই পরিচিত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুগুলো বলে কিভাবে সাফিয়া তাদের চিৎকার শুনে পাগলের মত ছুটে গিয়েছিল এবং তাদের ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছিল। চারটি শিশুর মধ্যে শেষ শিশুটিকে স্বজনদের হাতে তুলে দেয়ার পরই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
আবু আব্দুল্লাহ নামের এক আমিরাতি নাগরিক। যিনি ওই ৪ শিশুর একজন আব্দুল্লাহর পিতা। তিনি বলেন, ‘আমি সৈকতে এসে দেখি প্রবল স্রোত এড়িয়ে সাফিয়া সাঁতরে পাড়ে আসার চেষ্টা করছেন কিন্তু তিনি বারবার ডুবে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে আমরা তাকে পাড়ে টেনে তুলতে সক্ষম হই ও অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছার ঠিক আগ মুহূর্তে সাফিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
‘বাঙালি নারীর আত্মত্যাগে মুগ্ধ ওই আমিরাতি কৃতজ্ঞ কণ্ঠে আরও বলেন, ‘তিনি আমার ছেলে ও তার ৩ সঙ্গীর প্রাণ বাঁচিয়ে খুবই বীরোচিত কাজ করেছেন। এই নারীর কাছে আমরা সবাই ঋণী আর তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত’।
এদের মধ্যে বেঁচে যাওয়া একটি শিশু বলে, ‘তিনি আমাদের পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করেন কিন্তু প্রবল ঢেউ তাকে কেড়ে নেয়!’ ওই ঘটনার আগে শিশুগুলো আরব সাগর তীরবর্তী আবুধাবি শহরের দাবিয়া সৈকতে খেলা করছিল। খেলার একপর্যায়ে সবার অগোচরে তারা সাগরে নেমে পড়ে।
আবু আব্দুল্লাহ জানান, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে সাফিয়ার পরিবারে সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মৃতদেহ শিগগিরই দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে বাংলাদেশে কোন এলাকায় তার বাড়ি সংবাদ মাধ্যম তা জানায়নি।
তিনি আরও জানান, যেসব পরিবারের সন্তানদের সাফিয়া রক্ষা করেছেন তাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে যাতে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য সম্মানজনক একটি তহবিল সংগ্রহ করে পাঠানো যায়। আগামী দুই মাসের মধ্যে নিজের মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাফিয়া। কিন্তু তা আর হলো না। সব আশা বুকে নিয়েই তাকে পাড়ি যমাতে হলো ওপারে।