রাজশাহী: দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজশাহী কলেজের তিন ছাত্রী নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বাস দুইটির চালক ও হেলপারদের আসামি করে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বাকি বিল্লাহ বাদী হয়ে রোববার রাত সাড়ে ৯টায় থানায় মামলাটি করেন।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, দুপুরে রাজশাহী কলেজের ছাত্রীদের বহনকারী বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন ছাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উপপরিদর্শক মোস্তফা জামানকে। মামলায় রাজশাহী কলেজের ছাত্রী বহনকারী বাস ‘লাকী পরিবহন’ ও ‘ইসলাম পরিবহনের চালক ও হেলপারদের আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার দুপুর একটায় রাজশাহীতে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজশাহী কলেজের তিন ছাত্রী নিহত হয়েছে। রাজশাহী কলেজের ছাত্রী বহনকারী গাড়ির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে ইসলাম পরিবহন নামে অপর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ছাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২৫ জন। আহতদের মধ্যে ১৩ ছাত্রীকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার কাটাখালি জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রাজশাহী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদা হক তানিয়া, ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা ও ইতিহাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী বিউটি খাতুন।
এদের মধ্যে মাহমুদা হক তানিয়া রাজশাহীর মতিহার থানার কাপাশিয়া এলাকার ফজলুর হকের মেয়ে, শারমিন আক্তার পুঠিয়ার বড় ধাদাস এলাকার তোফাজ্জেলের স্ত্রী ও বিউটি খাতুন দুগাপুর উপজেলার নইপাড়া গ্রামের শাহজাহানের মেয়ে।
গুরুতর আহত রাজশাহী কলেজের ছাত্রীরা হলেন, ইসলামি স্টাডিজের চতুর্থ বর্ষের মুন্নি, অর্থনীতির প্রথম বর্ষের সুমি, সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের আফিয়া, সমাজবিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের খালেদা, আইরিন, ইসলামি ইতিহাসের মাস্টার্স শাহিনা, মলি, সমাজকর্মের দ্বিতীয় বর্ষের আদরি, রাষ্টবিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের ফজিলা, বোটানি শেষ স্নাতক বর্ষের লাবনি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের সেতু, অর্থনীতির দ্বিতীয় বর্ষের তুফানি হালদার, সমাজ বিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের মিতা।