আকতার হোসেন বকুল: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার শিমুলতলী শহীদ রেলগেট এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনের সাথে পেছনের বগির ধাক্কা লেগে ৪ জন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ও পুলিশ নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে জেলা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসে।
ফায়ার ব্রিগেড মৃতের সংখ্যা ৬ জন দাবি করলেও তাদের পরিচয় জানাতে পারেনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াছিন ও পুলিশ সুপার আবু কালাম সিদ্দিক এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী তেলবাহী মালট্রেন জয়পুরহাট রেল স্টেশন ছেড়ে জেলার পাঁচবিবি উপজেলার খাসবাগুড়ি এলাকায় গেলে হঠাৎ করে পেছনের ৫-৬টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে গার্ড মোবাইল ফোনে ড্রাইভারকে জানালে ড্রাইভার খাসবাগড়ির মীরশহিদ রেল গেটে দাঁড় করায়। পেছনের চলন্ত বগি দাঁড়ানো বগিসহ ইঞ্জিনের অংশে ধাক্কা লাগে। এতে তেলবাহী লরির ফাঁকে বসে থাকা লোকজন ছিটকে পড়ে ব্যাপক হতাহত হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই জুয়েল (১৪) নামে একজন দ্বিখণ্ডিত হয়ে মারা যায়। সে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকের ছেলে।
খবর পেয়ে ফায়ার ব্রিগেড দ্রুত আহতদের জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে হাসপাতালেই তিনজন মারা যায়। তার হলেন জেলার পুরানাপৈল এলাকার সাদেকুল, খঞ্জনপুর এলাকার আজাহার আলী অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আহতরা হলো সাদেক, রবিউল, আব্দুল মজিদ, সেকেন্দার, হৃদয়, আজাহার শেখ, ইমরান, রাজিয়া, বাবু, বাদল, সোহেল, বাচ্চু, সাদেকুল, খালেক, আবুজার শেখ, এ ছাড়া আশঙ্কজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরো ৫/৬ জনকে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল খাসবাগুড়ি গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্র শুভ হোসেন জানান, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই মালট্রেনের পেছনের ৫-৬টি বগি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ইঞ্জিন থেকে আলাদা হয়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই সামনের ট্রেনটি দাঁড়ানো মাত্র পেছনের বগিগুলি এসে সজোরে ধাক্কা দিলে বগি থেকে লোকজন ছিটকে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাঈদ ইকবাল জানান, ‘ওই দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন বলে তারা জেনেছেন। ঘটনার পর সান্তাহার রেলওয়ে থানার (জিআরপি) এসআই আব্দুর রাজ্জাকসহ চারজন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি ।
এ দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খোরশেদ আলমকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াছিন।