সিসি ডেস্ক: রংপুর বিভাগের কৃষকরা জমিতে বোরো বীজতলা তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু জায়গায় আগাম জাতের ধানের বীজতলার বয়স ১০ থেকে ১৫ দিন অতিক্রম করেছে। ২০১৪-১৫ বোরো মৌসুমে বীজতলা তৈরিতে জমির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৫৪ হাজার ৯৬ হেক্টর। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ১৯ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমি। কৃষি অফিসের দাবি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে কৃষকের দাবি এবছর বিএডিসিসহ অন্যান্য কোম্পানির প্রতি বীজ কেজিতে প্রায় ৪ থেকে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে ।
রংপুর সদর উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা কোথাও জমিতে পানি ধরে রেখে হাল দিচ্ছে। আবার কোথাও কৃষকরা বিভিন্ন জাতের বোরো ধান বীজ তৈরি জমিতে বপন করছেন। তবে কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১৫ দিন আগের বীজতলায় সবুজের সমারোহে অপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করছে। সদর উপজেলার চন্দন পাট ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আলীম। গত ১৫ দিন আগে ১০ শতক জমিতে বিআর-২৮ এবং হাইব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের বোরো বীজতলা তৈরি করেছেন।
মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের কৃষক ইয়াকুব আলী প্রায় ৩০ শতক জমির বীজ তলা তৈরির সকল কাজ সম্পন্ন করেছেন। তার নিজস্বভাবে রাখা প্রায় ২০ কেজি বীজ ধানসহ বিএডিসি এবং বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির প্রায় ৩ মণ ধানের বীজতলা তৈরির সকল কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি আশা করছেন বীজতলায় অঙ্কুরিত ধান গাছ দিয়ে প্রায় ১৬ একর জমিতে রোপণ করবেন। রংপুর জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিএডিসির ১০ কেজি ব্যাগের বোরো ভিত্তি বীজ বিক্রি হচ্ছে ৪১৫ টাকা। প্রতি কেজি বীজের দাম পড়ে ৪১ দশমিক ৫০ টাকা এবং ১০ কেজি ব্যাগের প্রত্যায়িত বোরো বীজের দাম ৩৭৫ টাকা। প্রতি কেজি বীজের দাম ৩৭ দশমিক ৫০ টাকা। গত বছর ভিত্তি বীজ এবং প্রত্যায়িত বীজের কেজি ছিল যথাক্রমে ৩৮ টাকা ও ৩৩ টাকা। আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মোট ৫৪ হাজার ৯৬ হেক্টর বীজতলার মধ্যে জেলাওয়ারী বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে রংপুর জেলায় ৬ হাজার ১৪৯ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার ৬১১ হেক্টর, উফশী ৪ হাজার ৫৩৮ হেক্টর । অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৫শ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার ৫০ হেক্টর, উফশী ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর। গাইবান্ধা জেলায় ৫ হাজার ৯৬৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড ১ হাজার ২১ হেক্টর, উফশী ৪ হাজার ৮৯৯ হেক্টর এবং স্থানীয় ৪৫ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ১৮৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার ১৯০ হেক্টর, উফশি ৩ হাজার ৮৯৫ হেক্টর এবং স্থানীয় ১শ। কুড়িগ্রাম জেলায় ৫ হাজার ১৪৩ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৯শ ১৭ হেক্টর, উফশী ৪ হাজার ১৪৭ হেক্টর এবং স্থানীয় ৭৯ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৬৮৩ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৮শ হেক্টর, উফশী ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর এবং স্থানীয় ১শ ৩৩ হেক্টর। লালমনিরহাট জেলায় ২ হাজার ৩৭৩ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৭৭৪ হেক্টর, উফশী ১ হাজার ৫৯৭ হেক্টর এবং স্থানীয় ২ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৩৪১ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৩৪০ হেক্টর, উফশী ১ হাজার হেক্টর এবং স্থানীয় ১শ হেক্টর। নীলফামারী জেলায় ৩ হাজার ৬৫৯ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার ৪৩ হেক্টর, উফশী ২ হাজার ৬১৬ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার ১৮০ হেক্টর, উফশী ১ হাজার ৯৯৫ হেক্টর। দিনাজপুর জেলায় ১১ হাজার ৩১০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৬২১ হেক্টর, উফশী ১০ হাজার ৬৮৯ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৯০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১৯০ হেক্টর, উফশী ১ হাজার ৯শ হেক্টর। ঠাকুরগাঁও জেলায় ৩ হাজার ৯৩৬ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ২শ ৮৩ হেক্টর, উফশী ৩ হাজার ৬৫৩ হেক্টর । অর্জিত হয়েছে ৪শ৭৭ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৪৩ হেক্টর, উফশী ৪শ ৩৫হেক্টর। পঞ্চগড় জেলায় ২ হাজার ১৯৭ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ২শ ২১ হেক্টর, উফশী ১ হাজার ৯৭৬ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৪শ৭৭ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৪৫ হেক্টর, উফশী ২শ ৫৪হেক্টর। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগে প্রতি বছরেই বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়। তাই আশা করা হচ্ছে এ বছরও তা অব্যাহত থাকবে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দেয় তাহলে বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে।
উৎস: করতোয়া