• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

কমলাপুরে যাত্রীবাহী ট্রেনে পরিকল্পিতভাবে আগুন

Komlapur--02সিসি নিউজ: রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে পারাবাত এক্সপ্রেসে আগুনের ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়; পরিকল্পিতভাবেই আগুন লাগানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। মূলত নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে নাশকতাকারীরা ট্রেনের বগিতে দাহ্যপদার্থ ছড়িয়ে আগুন লাগিয়েছে।

এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ওই বগিতে দাহ্যপদার্থ থাকার কথা নয়। কিন্তু আগুন যেভাবে দ্রুত ছড়িয়েছে এবং বগি যেভাবে ভস্মীভূত হয়েছে তাতে সহজেই বোঝা যায়, এটি নাশকতা। প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন, আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।

রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যেভাবে আগুন লেগেছে তাতে তারা নিশ্চিত, এখানে কেউ নাশকতার উদ্দেশ্যে আগুন লাগিয়েছে। কেননা শর্টসার্কিট থেকে ওই বগিতে আগুন লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়া ওই বগিতে কোনো ধরনের দাহ্যপদার্থ ছিল না।

সূত্রটি জানায়, ট্রেনটি ধোয়ার জন্য স্টেশনে রাখা ছিল। সেখানে লোকসমাগম নেই বললেই চলে। ওই স্থানটিতে রেলওয়ে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই ভাবে পাহারায় থাকেন না। এই সুযোগে নাশকতাকারীরা সেখানে আগুন লাগিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও মনে করছে, যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল তাদের অবহেলার সুযোগে নাশকতাকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ কারণেই দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর চারজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে পারাবত ট্রেনের ১৭৪৮ নম্বর বগিটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। পাশের একটি বগিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে ট্রেনে আগুন লাগে। এর পর ফায়ার সার্ভিস এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশ জানায়, ওই ট্রেনটি যাত্রীবাহী ট্রেন। এখানে কোনো ধরনের দাহ্যপদার্থ ছিল না। যদি দাহ্যপদার্থ না থাকে, তবে এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার কথা নয়।

রেলওয়ে থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রেলওয়েতে নাশকতা করা অনেক সহজ। বিশেষ করে জনবলের অভাবে নাশকতাকারীরা অনেক সময় সুযোগ নিয়ে থাকে। এমনকি পুলিশের জনবলও একেবারেই কম। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর পারাবত এক্সপ্রেসেই অগ্নিকাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, আগুনের ধরন দেখে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এটি দুর্ঘটনা নয়। পরিকল্পনা করে আগুন লাগানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কোনোভাবেই আমার মনে হয়নি এটি দুর্ঘটনা। নিরাপত্তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এখানে কেউ আগুন লাগিয়েছে।’

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীবাহী ট্রেনে দাহ্যপদার্থ থাকার কোনো কারণ নেই। হঠাৎ করে ওই ট্রেনে আগুন লাগাটা রহস্যজনক।’
রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ বলেন, ‘রেল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের আগে কোনোকিছুই বলা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. খলিলুর রহমানকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে।’

উৎস: দ্য রিপোর্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ