সিসি নিউজ: নীলফামারীতে জাহিদ হোসেন (১৪) নামে দশম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্র খুন হয়েছে। খুনের অভিযোগে সৎবাবাকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নীলফামারী পৌর এলাকার স্টেশন পাড়া সংলগ্ন ভাড়া বাড়ি থেকে ওই স্কুল ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে গত এক সপ্তাহ থেকে ছাত্রটির মা জুলেখা বেগম নিখোঁজ রয়েছে বলে জানান নিহত জাহিদের নানা আজিজুল ইসলাম।
নিহত জাহিদ দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ৯ম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে দশম শ্রেণীতে উর্ত্তীন হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্র জানায়, জাহিদের বাবা মমিনুল ইসলাম মারা যাওয়ায় মা জুলেখা বেগম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের গড়ধর্মপাল গ্রামের আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে নীলফামারী শহরের কলেজ পাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।
আর নিহত জাহিদ থাকতেন দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে নানা আজিজুল ইসলামের বাড়িতে। বুধবার সকালে নানার বাড়ি থেকে সৎ বাবা আমজাদ হোসেন তাকে নীলফামারীতে নিয়ে আসেন।
এদিকে বৃহস্পদিবার সকালে জাহিদের নানার বাড়িতে সৎ বাবা আমজাদ মুঠো ফোনে খবর জানায় রাতেই কিটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছে জাহিদ। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে নীলফামারী থানায় ইউডি মামলা করতে যান জাহিদের সৎ বাবা আমজাদ।
এদিকে খবর পেয়ে জাহিদের এমন কবর পেয়ে নানা আজিজুল ইসলাম এসে দেখেন নাতি জাহিদের শরীরে আঘাতের চিহৃ দেখতে পেয়ে বাদী হয়ে নীলফামারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে সৎ বাবা আমজাদকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এদিকে ছাত্রটির মা জুলেখা বেগম গত এব সপ্তাহ থেকে অজানা কারণে নিখোঁজ রয়েছে বলে হত্যা মামলায় উল্লেখ্য করে জুলেখার বাবা আজিজুল ইসলাম।
নিহত জাহিদেন নানা ও মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম জানান, গত শনিবার থেকে আমার মেয়ে (জুলেখা বেগম) নিখোঁজ রয়েছে। এবং বুধবার আমার নাতি জাহিদকে তার সৎ বাবা আমজাদ নীলফামারীতে নিয়ে আসে। এবং তাকে হত্যা করে আতœহত্যার খবর জানায়। আমার ধারণা সে আমার মেয়কেও হত্যা করেছে। এই ঘটনায় আমি একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছি।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বাবুল আখতার জানান, নিহত জাহিদর লাশ উদ্ধার করে করা হয়েছে। লাশের ঘাড়ে ও ডান হাতে সুচালু আঘাদের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে হত্যার পর তার মুখে কিটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত জাহিদের নানা আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে সৎবাবা আমজাদকে আসামী করে মামলা দায়ের করায় আমজাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের ময়না তদন্তের জন্য দুপুরে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি জাহিদের মা জুলেখা নিখোঁজ হয়েছে না তাকেও হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।