সিসি ডেস্ক: রাজশাহীর মোহনপুরে মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে অপহৃত এক মেধাবী স্কুলছাত্রকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার লাশ তিন টুকরো করে মাটিতে পুঁতে রাখে খুনিরা। খুনিরা বীভৎস এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনাও দিয়েছে পুলিশকে।
নিহত শিশু ফজলে রাব্বী (১০) মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ি ডাংপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। সে বেড়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তো।
পুলিশ জানায়, গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বেড়াবাড়ি মোড়ের একটি দোকানে বসেছিলেন আলী হোসেন। সেখানে বাবাকে ডাকতে যায় রাব্বী। এ সময় আলী হোসেন কিছুক্ষণ পরে আসার কথা বলে ছেলেকে বাড়ি যেতে বলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে আলী হোসেন বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন রাব্বী বাড়ি ফেরেনি। ওই দিন রাতেই তিনি থানায় একটি ডায়েরি করেন। ২২ ডিসেম্বর তাদের প্রতিবেশী সাহাবুদ্দিনের মোবাইলে কল করে রাব্বীর বাবা আলী হোসেনকে চাওয়া হয়। আলী হোসেনকে ফোনটি দেওয়া হলে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার কাছে ১০ লাখ টাকা চায় ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে। এ ঘটনায় মোহনপুর থানায় ওইদিনই একটি অপহরণ মামলা দায়ের হয়। এরপর পুলিশ সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতের কাছে রিমান্ডের আবেদন করে।
প্রতিবেশী সাহাবুদ্দিনের কাছে যে মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল সেই নম্বরটির সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ একই গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রিপন হোসেন লিটন (২০), হযরতের ছেলে নাজমুল হোসেন (২১), কাশেম আলীর ছেলে মাজেদুর রহমান সাগর (২৫), কাশেম আলী (৫০), তার দ্বিতীয় স্ত্রী আশিনুর বেগম (৩০), কাশেমের ভাই আলাউদ্দিনকে (৫২) গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী রিপন ও নাজমুল। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় মাজেদুর রহমান সাগর। রিপন ও নাজমুলের নামে ঢাকায়ও হত্যা মামলা আছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের গ্রেফতারের সময় আটক করা হয় সাগরের বাবা কাশেম, চাচা আলাউদ্দিন ও সৎ মা আশিনুর বেগমকেও।
রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া সমকালকে জানান, রিপনের সঙ্গে নিহত রাব্বীর পরিবারের শত্রুতা ছিল। তবে অপহরণের মূল উদ্দেশ্য ছিল আলী হোসেনের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নেওয়া। কিন্তু শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখলে সে তাদের পরিচয় জানিয়ে দিতে পারে এই আশঙ্কায় ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা রাব্বীকে ডাংপাড়া বিলে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর রিপন রাব্বীর মাথায় হাঁসুয়া দিয়ে কোপ দেয়। এরপর রিপন গলা কেটে শিশুটির মাথা আলাদা করে। এ সময় তার পা ধরে রাখে সাগর। ডান হাতটি কেটে নেয় নাজমুল। হত্যার পর তারা সেখানেই গর্ত করে লাশটি মাটিতে পুঁতে রাখে। পরে তারা বিলের পাশের বারনই নদীতে হাঁসুয়া ও অস্ত্র ফেলে দেয়। পরে তারা মুক্তিপণের টাকা নিতে তৎপর হয়ে ওঠে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, এসব ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে সাগর। তবে নাজমুল ও রিপন পেশাদার খুনি হওয়ায় তারা সব স্বীকার করছে না। শুক্রবার ভোরে শিশুটির মাথা ও শরীর ডাংপাড়া বিল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ডান হাতটি পাওয়া যায়নি।
মোহনপুর থানার ওসি আবদুল হামিদ জানান, অপহরণ মামলাটির সঙ্গে এবার হত্যা মামলার ৩০২ ধারা যোগ হবে।