আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১৬২ যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ১৭ ঘন্টা (রাত নয়টায়) পরও এয়ার এশিয়া ইন্দোনেশিয়ার ফ্লাইট কিউজেড ৮৫০১ এর কোনো হদিস মেলেনি। এয়ারবাস এ৩২০-২০০ মডেলের বিমানটি স্থানীয় সময় রবিবার ভোর ৫টা ২০মিনিটে (বাংলাদেশ সময় চারটা ২০ মিনিট) ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া শহর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিমানটি সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর কথা ছিল সিঙ্গাপুর সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে। কিন্তু পথিমধ্যে জাভা সাগরের আকাশে নিখোঁজ হয়ে যায় বিমানটি। সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই তা নিখোঁজ রয়েছে।
বিমানটি নিখোঁজ হয়ে পড়ার পরপরই ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কয়েকটি বিমান কালিমাতান (বোর্নিও) এবং জাভার মধ্যবর্তী সাগরে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।লম্বা সময় অভিযান চালিয়েও বিমানটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং সন্ধ্যা নেমে আসায় তল্লাশি অভিযান স্থগিত রাখা হয়। তবে কয়েকটি সামুদ্রিক ইঞ্জিন নৌকা ছোট আকারে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।
এক ইন্দোনেশিয় কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসিকে জানিয়েছে তল্লাশি অভিযানে বিমানটির ধ্বংসাবশেষরও কোনো হদিস মেলেনি।
এয়ার ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটির পাইলট ঝড়ের কারণে এর নির্দিষ্ট রুট থেকে সরে যাওয়ার অনুমতির জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী বলেছেন, ভারী মেঘমালা এড়িয়ে চলার জন্য বিমানটির পাইলট ৩৮ হাজার ফুট উঁচুতে উঠে উড়ে চলার অনুমতি চেয়েছিল।
মালয়েশিয়া ভিত্তিক বিমান কোম্পানি এয়ার এশিয়া ওই বিমান কোম্পানিটির ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক। কোম্পানিটির ইতিহাসে এর আগে বিমান নিখোঁজের কোনো রেকর্ড নেই।
২০১৪ সালটাই আসলে এশিয়ায় বিমান চলাচলের একটি কঠিন বছর ছিল। শুধুমাত্র ২০১৪ সালেই মালয়েশিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস এর এমএইচ৩৭০ ও এমএইচ১৭ নামের দু’টি বিমান খোয়া যায়।
ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ গত মার্চে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ হয়। ধারণা করা হয় বিমানটি দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বিমানটির এক টুকরো ধ্বংসাবশেষেরও হদিস মেলেনি।
আর এমএইচ১৭ গত জুলাইয়ে ২৯৮ জন যাত্রী নিয়ে ইউক্রেনের সংঘর্ষ কবলিত এলাকার উপর দিয়ে উড়ে আসার সময় গুলিতে বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হয় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহীরা ভুলবশত ওই বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে।
এয়ার এশিয়া ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে রবিবার নিখোঁজ হওয়া ফ্লাইট কিউজেড৮৫০১ এ বিমানটিতে ৫ ক্রু ও ২ পাইলট ব্যতীত ১৫৫ জন যাত্রী ছিল। যাদের ১৭ জন শিশু। যাত্রীদের বেশিরভাগই ইন্দোনেশিয় নাগরিক। এছাড়া যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক ছিল একজন করে। পাইলট ও ক্রুদের একজন ফরাসি অপর পাঁচজন ইন্দোনেশিয় নাগরিক।বিমানটিতে থাকা যাত্রীদের আত্মীয়-স্বজনরা ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়ার জুয়ান্দা বিমান বন্দর ও সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমান বন্দরে জড়ো হয়ে এখনও অপক্ষোয় আছেন তাদের স্বজনদের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে তা জানার জন্য।প্রসঙ্গত, এয়ার এশিয়া ইন্দোনেশিয় দ্বীপপুঞ্জের আভ্যন্তরীণ রুটসমূহে এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডের আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন করে আসছিল।দূর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভিযোগে ২০০৭ সালে এয়ার এশিয়াসহ ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য বিমান কোম্পানিগুলোর উপর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে ২০১০ সালের জুলাই মাসে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।