চট্টগ্রাম: মিলাদুন্নবীর মাহফিলে তাবলীগ জামায়াত ও ইজতেমার পক্ষে বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ও চন্দ্রঘোনায় ওয়াহাবী ও সুন্নি আকিদার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার পর উপজেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকে উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে।
শনিবার সকালে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে একটি পক্ষ। এ ছাড়া রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলী শাহের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোরও খবর পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব সরফভাটা এলাকায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক সুন্নি সম্মেলন ও মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গভীর রাতে সেই মাহফিলে তাবলিগ ও ইজতেমা নিয়ে একজন মাওলানা বক্তব্য রাখেন। এই বক্তব্যের পর মাহফিলে হঠাৎ করে উত্তেজনা এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ওই মাহফিল থেকে ওহাবিরা সুন্নি আলেমদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন স্থানে মাইকে প্রচার হতে শুরু করলে সংঘর্ষ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৩টার দিকে উপজেলার গোডাউন এলাকায় কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
এ সময় সরফভাটা গোডাউনসহ কয়েকটি এলাকায় বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকায় অবস্থিত তৈয়বিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে ছাত্ররা বেরিয়ে এলে ওহাবি-সুন্নি সংঘর্ষ হয়। এসময় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার সকালে সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলী শাহের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়লেও তিনি ওই সময় গাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে। রাতের সংঘর্ষে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘ওয়াজে এক মাওলানার বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে ওয়াহবি-সুন্নি আকিদার মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়েছিল। সেকারণে সকাল থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’