• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কৃত্রিম প্রজননে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনে সাফল্য

Kakraকৃষি ডেস্ক : কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে অ্যাকুয়াকালচার ফর ইনকাম অ্যান্ড নিউট্রিশন (অওঘ) প্রকল্প এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কক্সবাজারস্থ সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র-এর গবেষক দল। ওয়ার্ল্ডফিস বাংলাদেশ কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউএসএআইডির অর্থায়নে ওর্য়াল্ডফিস বাংলাদেশ কার্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার ফর ইনকাম অ্যান্ড নিউট্রিশন (অওঘ) প্রকল্প এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কক্সবাজারস্থ সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র-এর যৌথ তত্ত্বাবধানে ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে হ্যাচারিতে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনের গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়।

হ্যাচারিতে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন অপেক্ষাকৃত নতুন প্রযুক্তি। গভীর সমুদ্র থেকে ধরে আনা মা কাঁকড়া হ্যাচারিতে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করে ডিম থেকে জুইয়া (কাঁকড়া ডিম ছাড়ার পর পোনার প্রাথমিক অবস্থায় জুইয়া) বের করে আনা হয়। এরপর সেই জুইয়া প্রযুক্তিকেন্দ্রের বিশেষ ল্যাবে সংরক্ষণ করে বাঁচিয়ে রাখা হয়।

ওর্য়াল্ডফিস (ইউএসএআইডি-এআইএন প্রকল্প) এবং সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র-এর যৌথ গবেষণায় হ্যাচারিতে প্রথম প্রচেষ্টায় মোট তিনটি পরিপক্ক মা কাঁকড়া থেকে যথাক্রমে ৩২ লাখ, ১৬ লাখ ও ২৬ লাখ হ্যাচিং-পরবর্তী জুইয়া পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, পরিপক্ক মা কাঁকড়া থেকে পূর্ণাঙ্গ পোনা তৈরিতে মোট ছয়টি ধাপ পার হতে হয়। জুইয়া তৈরিতে পার হয় এক থেকে পর্যন্ত ধাপ ও ছয় নম্বর ধাপটির নাম মেগালোপা। অ্যাকুয়াকালচার ফর ইনকাম অ্যান্ড নিউট্রিশন (অওঘ) প্রকল্পের চিফ অব পার্টি এরিক বলেন, ‘দীর্ঘ গবেষণার পর মাৎস্যবিজ্ঞানীরা এখন কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ডিম থেকে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন করছেন। এরপর এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন ও বিপণন শুরু হলে দেশে কাঁকড়া চাষের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।’

বাংলাদেশে ইতিপূর্বে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় পরিপক্ক কাঁকড়ার হ্যাচিং-এর তথ্য পাওয়া গেলেও জুইয়া ধাপ পার হওয়ার কোনো তথ্য নেই। কক্সজারস্থ সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রে সম্প্রতি দ্বিতীয় বারের প্রচেষ্টায় একটি পরিপক্ক মা কাঁকড়া থেকে ১৯ লাখ হ্যাচিং জুইয়া ও পরবর্তীতে ১.৫ শতাংশ সারভাইবাল হারে এদেশে প্রথম মেগালোপা ও পূর্ণাঙ্গ কাঁকড়া পোনা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

গবেষণাদলের প্রধান ড. ইনামুল হক বলেন, ‘হ্যাচারিতে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন অপেক্ষাকৃত নতুন প্রযুক্তি। এশিয়ার অগ্রসর দেশ ফিলিপাইনস, ভিয়েতনাম ও ভারতে কাঁকড়ার হ্যাচারি প্রতিষ্ঠিত হলেও তা ব্যাপকভিত্তিক নয়। এ ক্ষেত্রে মূল বাধা হলো- পোনার বাঁচার হার কম। সবশেষ গত এক মাসে গবেষকদল হ্যাচারিতে তিনটি পরিপক্ক মা কাঁকড়া (মাড প্রজাতি, স্থানীয় নাম শিলা কাঁকড়া) সংরক্ষণ করে হ্যাচিং-পরবর্তী জুইয়া পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ পোনায় পরিণত হতে পাঁচ ধাপ জুইয়া ও এক ধাপ মেগালোপা অতিক্রম করতে হয়। এ ক্ষেত্রে আমরা সফল হয়েছি। বাংলাদেশে আগে পরিচালিত গবেষণায় হ্যাচিংয়ের তথ্য পাওয়া গেলেও জুইয়া ধাপ পার হওয়ার কোনো তথ্য নেই। এখন বাণিজ্যিকভাবে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এ ছাড়া আমাদের গবেষণা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ আন্তর্জাতিক জার্নালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

ড. ইনামুল হক বলেন আরো বলেন, ‘কাঁকড়া রফতানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্পের রূপ ধারণ করেছে। বাংলাদেশে পাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়ার মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাপ্ত মাড ক্রাব বা শীলা কাঁকড়ার আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও দাম সবচেয়ে বেশি। কক্সবাজারে হ্যাচারিতে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনের প্রাথমিক সফলতা অনেক চিংড়ি হ্যাচারি মালিককে আগ্রহী করে তুলবে। কাঁকড়ার পোনা লালনের জন্য ওয়ার্ল্ডফিসের সহায়তায় ইতিমধ্যে সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তিকেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ লাইভ ফিড কালচার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে, যা কাঁকড়ার হ্যাচারি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে। সেই সঙ্গে কাঁকড়া চাষের সম্প্রসারণের পাশাপাশি উপকূলীয় জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষিত হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ