আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ায় মাদক চোরাচালানের দায়ে আটক দুই অস্ট্রেলীয়কে দণ্ড কার্যকরের জন্যে ‘মৃত্যুদ্বীপে’ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের দণ্ড দানের পর থেকেই অস্ট্রেলীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক পর্যায়ে ভীষণ চাপের মুখে ছিল ইন্দোনেশীয় প্রশাসন। সে চাপ উপেক্ষা করে শিগগিরই তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে দেশটি।
এ মুহূর্তে আসামীদ্বয় বালির কারাগার কেরোবোকান থেকে সশস্ত্র প্রহরায় বিমানবন্দরের দিকে চলেছে। আটক দুই আসামীর নাম অ্যান্ড্রু চ্যান (৩১) এবং মুয়ুরান সুকুমারান (৩৩)। তাদের নিয়ে বিমান পাড়ি দেবে ইন্দোনেশিয়ার নুসাকামবাঙ্গান দ্বীপে। ঐ দ্বীপে অত্যন্ত উচ্চ নিরাপত্তাসম্বলিত আরও কারাগার আছে।
ঐ দুই অস্ট্রেলীয় নাগরিককে ২০০৫ সালে মাদক-আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বালি-নাইন নামে একটি মাদক চোরাচালানকারী দলের হয়ে হেরোইন পাচারের কাজ করে যাচ্ছিল। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট ‘অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব থাকায়’ দুই মাদক পাচারকারীকে বাঁচানোর পেছনে বিশেষ তৎপর ছিলেন।
এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ একচোট হয়ে গেছে। প্রথমত, মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার পর তিনি মাদক পাচারকারীদের ফেরত চেয়েছেন। ইন্দোনেশিয়া তাতে রাজি না হওয়ায় মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন, ২০০৪ সালে দেশটি সুনামিতে আক্রান্ত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার ছাত্রছাত্রীরা তখন অ্যাবটকে ‘অস্ট্রেলিয়ার দান’ ফিরিয়ে দেয়ার জন্যে চাঁদা তুলতে শুরু করে।
ইন্দোনেশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মাদ প্রাসেত্যবলেন, মৃত্যুদণ্ডের জন্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ৯৫ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছে। শেষ ধাপটি হচ্ছে, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্যটি অবলোকনের জন্যে নুসাকামবাঙ্গান দ্বীপের সকল কয়েদীদের জড়ো করা। সেটিও সম্পন্ন হচ্ছে।
টনি অ্যাবট বলেন, ‘আমরা মাদককে ঘৃণা করি। সেই সঙ্গে ঘৃণা করি মৃত্যুদণ্ড প্রদানকেও। আর ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে এমন আচরণ একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।