সিসি ডেস্ক: লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যায় জড়িত সন্দেহে ব্লগার রাজিব হায়দার হত্যা মামলার পলাতক আসামি রেদোয়ানুল আজাদ রানাকে খুঁজছে পুলিশ।
২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ দণ্ডের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন শুরুর দশম দিনে ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজের বাসার সামনে খুন হন ব্লগার রাজীব।
ঠিক একই কায়দায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎ রায়কেও। দৃর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে আঙুল হারান তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা।
রাজিব হায়দার খুন হওয়ার পর তদন্তে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে বেরিয় আসে। পরে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ। অভিযোগপত্রে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী করা হয় ৫৫ জন।
ওই মামলার আসামিদের মধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মো. জসীম উদ্দিন রাহমানী ছাড়া বাকিরা নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের মধ্যে রেদোয়ানুল আজাদ রানা পলাতক।
ফেনীর দাগনপুরের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদের ছেলে রানা ঢাকায় বসুন্ধরা এলাকার আই ব্লকের ১৪৭/সি নম্বর বাসায় থাকতেন।
২০০৫ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়ে নটরডেম কলেজে পড়েন রানা।
এরপর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হয়ে তিনি উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে উঠেন বলে গোয়েন্দা পুলিশের দাবি।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্লগার রাজিব হত্যা মামলার আসামি রানাকে পাওয়া গেলে অভিজিৎ হত্যার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই রানাকে যদি কেউ ধরিয়ে দিতে পারে তাকে আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করার কথাও বিবেচনায় রেখেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, অভিজিৎ হত্যার রহস্য উদঘাটনে রানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হত্যায় জড়িত সন্দেহে তাকে পুলিশ খুঁজছে।
ব্লগার রাজিব হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, জসীমউদ্দিনের লেখা বই পড়ে এবং সরাসরি তার বয়ান ও খুতবা শুনে ‘নাস্তিক ব্লগারগার’দের খুন করতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্লগার রাজীব খুন হন। রাহমানিকে এই হত্যায় উৎসাহদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুফতি জসীমের উসকানিমূলক খুতবার বিষয়টি ছাত্রদের জবানবন্দিতেও উঠে এসেছে। ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর জসীমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয় তার আগে, মার্চ থেকে অগাস্টের মধ্যে।
লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় খুন হওয়ার পর গত ২ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অভিজিৎ রায়কে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসা ‘উগ্রপন্থি’ ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ইতোমধ্যে ঘটনা তদন্তে সহায়তা করছেন চার সদস্য বিশিষ্ট এফবিআই প্রতিনিধিদল।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ফারাবীকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসবাদ করে। তবে ফারাবী হত্যায় নিজের সরাসরি অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেননি।
এদিকে নিহতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অজয় রায়ের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে এফবিআই প্রতিনিধিদল। নিহতের স্ত্রী বন্যা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আগে পুলিশের কাছে জবানবন্দিও দেন। উৎস: বিডি নিউজ