সিসি নিউজ: বাঙালির জীবন থেকে বিদায় নিচ্ছে আরও একটি বছর। ১৪২১ বঙ্গাব্দের শেষ দিন ৩০ চৈত্র আজ। আজ বাঙালির বর্ষবিদায়ের দিন চৈত্রসংক্রান্তি। চৈত্রের শেষ দিন। ঋতুরাজ বসন্তেরও। বাংলা সন ১৪২১ তার শেষ গান গেয়ে আজ বিদায় নেবে। বসন্তকে বিদায় জানিয়ে আসবে নতুন বছর। বৈশাখ আসবে নতুন দিনের বারতা নিয়ে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকের বাদ্যে শুরু হয় এ উৎসব। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ চৈত্রসংক্রান্তি উৎসব।
আবহমানকাল থেকে নানা লোকাচার উৎসব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালন করে আসছে বাংলাদেশের মানুষ। মূল আয়োজন গ্রামে হলেও নগর সংস্কৃতিতে এর কদর এখন যথেষ্ট। শেকড় সন্ধানী মানুষ বর্ণাঢ্য আয়োজনে আজ উদযাপন করবে চৈত্রসংক্রান্তির পার্বণ। একই সঙ্গে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে সারা দেশ।
চৈত্রসংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে শেকড়ের টানে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে বাঙালিরা। পয়লা বৈশাখকে বরণ করার জন্য চলছে দেশজুড়ে উৎসবের প্রস্তুতি। এখন শেষ পর্যায়ে। চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলা সনের শেষ দিনটিতে আজ চৈত্রসংক্রান্তির মেলা ও নানা পর্ব মনে করিয়ে দিচ্ছে নতুন বছর দোরগোড়ায়। চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে লোকমেলার আয়োজন গ্রামগঞ্জেই হয় বেশি। মেলা, গান-বাজনা, যাত্রাপালাসহ নানা আয়োজনে উঠে আসে লোকজ সংস্কৃতির নানা সম্ভার। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা মেতে ওঠে পূজা-অর্চনায়।
চৈত্রসংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস করে কাটান। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করেন।
চৈত্রসংক্রান্তির আরেকটি বড় উৎসব ‘চড়ক’। চৈত্র মাসজুড়ে সন্ন্যাসীরা উপবাস, ভিক্ষান্নভোজন প্রভৃতি নিয়ম পালন করেন। সংক্রান্তির দিন তারা শূলফোঁড়া, বাণফোঁড়া ও বড়শিগাঁথা অবস্থায় চড়কগাছে ঝোলেন। আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটেন। ভয়ংকর ও কষ্টসাধ্য শারীরিক কসরত দেখতে সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ এসে জড়ো হন। আনন্দে মাতেন। এ আয়োজনের সঙ্গে আরো চলে গাজনের মেলা। এসব মেলার সঙ্গে বিভিন্ন পৌরাণিক ও লৌকিক দেবতার নাম সম্পৃক্ত। যেমন- শিবের গাজন, ধর্মের গাজন, নীলের গাজন ইত্যাদি।