• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বিশ্বের ভয়ঙ্করতম ভূমিকম্পগুলো!

earth2সিসি ডেস্ক: নেপালে শনিবারের ভূমিকম্প দেশটির ৮০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ভূমিকম্প ছিল, যাতে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ এ ধরনের ভূমিকম্পে দেশটি আক্রান্ত হয়েছিল ১৯৩৪ সালে, যাতে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে আট হাজার। চলুন জেনে নেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভয়ঙ্করতম ভূমিকম্পের ঘটনাগুলো সম্পর্কে- হাইতি, ২০১০ স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ও রিখটার স্কেলে সাত মাত্রার ভূমিকম্পটিতে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ছিল তিন লাখ ১৬ হাজার। যদিও এই সংখ্যা বেশ বিতর্কিত। অন্য তথ্য অনুযায়ী ওই ভূমিকম্পে প্রাণহানি হয়েছিল দুই লাখ ২০ হাজার মানুষের। চীন, ২০০৮ চীনের পূর্বাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত হয়েছিল ৯০ হাজার মানুষ। কাশ্মীর, ২০০৫ পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৬, নিহত হয়েছিল এক লক্ষাধিক মানুষ। ভারত মহাসাগর, ২০০৪ ভারত মহাসাগরে ৯.১ থেকে ৯.৩ মাত্রার পর্যায়ক্রমিক ভূমিকম্পে সৃষ্ট বিশালাকার জলোচ্ছ্বাস বা সুনামিতে ইন্দোনেশিয়া ও সুমাত্রায় প্রাণ হারিয়েছিল প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল এই ভূমিকম্পটি। ইরান, ২০০৩ ইরানের বাম শহরের নিকটবর্তী অঞ্চলে ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছিল প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। এতো গেলো গত এক দশকের কথা। এবার চলুন জেনে নেয়া যাক এগুলো ছাড়াও পৃথিবীর সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কয়েকটি ভূমিকম্পের কথা। চীন, ১৫৫৬ প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে চীনের সাঞ্জিতে আট মাত্রার ওই ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে আট লাখ। চীন, ১৯২০ চীনের নিংজিয়া-গাংসু অঞ্চলে সৃষ্ট ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৮, প্রাণহানি দুই লাখ সাড়ে ৭৩ হাজার। চিলি, ১৯৬০ স্মরণকালের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে ভয়াবহভাবে এদিন কেঁপে উঠেছিল পৃথিবী। চিলির ভালদিভিয়ায় ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৯.৫, যা ছিল ১৭৮ গিগাটন পরিমাণ শক্তির সমপরিমাণ। অর্থাৎ এক হাজারটি পারমাণবিক বোমা একসাথে বিস্ফোরিত হলে এই পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হবে। এই কম্পন পৌঁছেছিল ৪৩০ মাইল দূরে অবস্থিত হাওয়াই দ্বীপেও। তবে এতে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ছয় হাজার, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল তৎকালীন বাজারমূল্যে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি! চীন, ১৯৭৬ চীনের হেবেইতে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটিতে নিহত হয়েছিল চীনা সরকারের রেকর্ড অনুযায়ী- ছয় লাখ ৫৫ হাজার মানুষ। অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ না হওয়ায় সেখানকার কোনো স্থাপনাই ভূমিকম্প সহনশীল ছিল না। তুরস্ক, ৫২৬ খ্রিস্টাব্দ দেড় হাজার বছর আগে তুরস্কের তৎকালীন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে সৃষ্ট সাত মাত্রার ওই ভূমিকম্পে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তখন জনসংখ্যা এমনিতেই ছিল কম, ফলে প্রায় পুরো সাম্রাজ্যই হয়ে গিয়েছিল নিশ্চিহ্ন। সিরিয়া, ১১৩৮ প্রায় এক হাজার বছর আগে সিরিয়ার প্রাচীন শহর আলেপ্পোতে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ধারণ করা যায়নি। ঐতিহাসিকভাবে তুলনা করে ওই ভূমিকম্পে নিহতদের সংখ্যা পঞ্চদশ শতকে নির্ণয় করেছিলেন ইবনে তাঘরিবিরদি, প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার। ইরান, ৮৫৬ ইরানের দামঘানে প্রায় ১৩শ’ বছর আগের ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৯, নিহত দুই লাখ। ইরান, ৮৯৩ ইরানের আরদাবিলে প্রায় ১৩শ’ বছর আগের আরেকটি ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছিল দেড় লাখ মানুষ। ভূমিকম্পের মাত্রা জানা যায়নি। ইতিহাস দাবি করে- আরবি শব্দ ‘দাবিল’-কে ‘আরদাবিল’ উচ্চারণ করায় সৃষ্টিকর্তার অভিশাপে ওই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ভূমিকম্পের পুরো ঘটনাই ‘ভুয়া’ বলে মনে করেন অনেক বিজ্ঞানী। সিরিয়া, ৫৩৩ সিরিয়ার আলেপ্পোতে দেড় হাজার বছর আগের ওই ভূমিকম্পে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু সম্পর্কে জানা গেলেও জানা যায়নি এর মাত্রা। ইতালি, ১৯০৮ গত শতাব্দীতে এক বিকাল বেলা ইতালির মেসিনা কেঁপে উঠেছিল ভয়ঙ্গকরভাবে, যা স্থায়ী ছিল ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড, মাত্রা ছিল ৭.১। ওইটুকু সময়ের মধ্যে ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে চতুর্দিকে তিনশ’ কিলোমিটার পর্যন্ত যাবতীয় স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। নিকটবর্তী সমুদ্রে জলসীমা ৪০ ফুট উঁচু হয়ে সুনামির সৃষ্টি হয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল এক লাখ ২৩ হাজার মানুষের। তুর্কমেনিস্তান, ১৯৪৮ ৭.৩ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে নিহত হয়েছিল এক লাখ ১০ হাজার মানুষ। জাপান, ১৯২৩ গত শতাব্দীতে জাপানের কান্তো অঞ্চলে সৃষ্ট ভূমিকম্পটিতে এক লাখ পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। স্থায়ী হয়েছিল চার থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত, মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৯। রাজধানী টোকিওসহ ইয়োকোহোমা, শিবা, কানাগাওয়া ও শিজুয়োকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল সেবার। কামাকুরায় অবস্থিত ৯৩ টন ওজনের একটি বুদ্ধমূর্তি ভূমিকম্পের কারণে ছিটকে পড়েছিল প্রায় দুই ফুট দূরে। চীন, ১২৯০ চীনের নিঙশেঙে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছিল এক লাখ মানুষ। সূত্র: উইকিপিডিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ