• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

লাইলী-মজনু’র ভালোবাসা তুচ্ছ !

Husband & Wifeজহুরুল ইসলাম খোকন: ভালোবাসা শুধু চোখের বা পাওয়ার জন্যই নয়। ভালোবেসে বিয়ে, এরপর তিন যুগের সংসার জীবনে দৃষ্টান্ত ভালোবাসা অনেকটা বিরল। লাইলী মজনু, রোমিও-জুলিয়েট, অথবা শিরি-ফরহাদ ভালোবেসে ছিলেন। তাদের ভালোবাসাটা ছিল অনেকটা পাওয়ার জন্য। একজন আরেকজনকে পাওয়ার জন্য যে ভালোটা বেসেছিলেন তা পৃথিবী জুড়ে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। কিন্তু সৈয়দপুর উপজেলার বঙ্গবন্ধু সড়ক এলাকার বাসিন্দা হোমিও চিকিৎসক সৈয়দ আব্দুল রশিদ বাবলু ও চিকিৎসক রায়হানা বেগমের ভালোবাসা আসলেই কল্পনা অতীত।
৩৫ বছর আগে দু’জন দু’জনকে পাগলের ন্যায় ভালোবেসে বিয়ে করেন। ৩০ বছর আগে সন্তান প্রসবের পর ডাক্তার রায়হানা বেগম পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়। চলাফেরা একেবারেই বন্ধ। কিন্তু ডাক্তার বাবলু হোসেন তার স্ত্রী ডাক্তার রায়হানা বেগমকে ভালোবাসার কমতি করেননি। ৩০টা বছর থেকে অদ্যবদি ভালোবাসার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যা বর্তমানে ভালোবাসার এক নতুন নমুনা বলা চলে।
ভোরে উঠে প্রথমে স্ত্রীকে বাথরুমের কাজ শেষে অজু করিয়ে নামাজে বসিয়ে দেন। এরপর নিজে নামাজ শেষে স্ত্রীকে বিছানায় রেখে চলে যান নাস্তা তৈরীর জন্য। একসাথে নাস্তা শেষে সব গোছগাছ করে তিনি চলে যান নিজ চেম্বারে। দুপুরে আবারো স্ত্রীকে গোসল করিলে রান্না শেষে একসঙ্গে খেয়ে শুয়ে পড়েন। বিকালে হুইল চেয়ারে করে প্রতিবেশীর বাড়ী ঘুরে বেড়ান। সামাজিক সকল অনুষ্ঠানেও তিনি স্ত্রীকে নিয়ে যান। স্ত্রী ডাক্তার রায়হানা বেগম রান্না করতে পারেন না বলে মাছ মাংস খাওয়াও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর হাসি খুশিই যেন তার সুখ শান্তি। স্ত্রীর ভালোবাসায় রাগ ও দুঃখ করা যেন তিনি ভুলেই গেছেন। স্ত্রীর সামান্য অসুখ বিশুখে সেবা করাটা যেন তার ভালোবাসার অংশ। বিগত ৩০টা বছরে ৬০ ঘন্টাও ঘুমাননি তিনি।
ডাক্তার বাবলু সাহেব বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী দু’জনই ডিপ্লোমা-ইন-হোমিও মেডিকেল সার্জারী (ডিএইচএমএস) ডিগ্রী অর্জন করেন। দুটি সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান সৈয়দা রশিদা রায়হানা অনুরূপ ডিগ্রী অর্জন করেছেন। ছোট সন্তান সৈয়দা রাবেয়া খাতুন অনুরূপ ডিগ্রী অর্জন করে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেছেন।
ডাক্তার বাবলু সাহেবের স্ত্রী ডাক্তার রায়হানা বেগম বলেন, এ যুগে তার স্বামীর মত মানুষ পাওয়া দুস্কর। ডাক্তার বাবলুর মত স্বামী পাওয়া আসলেই মেয়ে মানুষের ভাগ্যের ব্যাপার। তিনি বলেন, জানিনা মজনু কতটা ভালোবেসেছিল লাইলীকে। ফরহাদই বা কতটা ভালোবেসেছিল শিরিকে। কিন্তু ডাক্তার বাবলু যতটা তাকে ভালোবাসে তা কেউই কাউকে ভালবাসেনি এবং ভালোবাসতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ