খেলাধুলা ডেস্ক : শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন ৫৭ রান। ৪৮ এবং ৪৯তম ওভারে উঠে গেল (১৮+১১) ২৯ রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন ২৮। সানরাইজার্সের বোলার ইশান্ত শর্মা। দলটির সমর্থকরা তো ভেবেই নিয়েছিল জয় নিশ্চিত। নাটকীয় কিছু না ঘটলে তো তাদেরই জয় হবে। হলোও, তবে চরম নাটকীয়তার পরই।
শেষ ওভারে লাগবে ২৮ রান। উইকেটে তখন ৩৮ বলে ৬৭ রান করে ফেলা ডেভিড মিলার। প্রথম দুই বলেই পরপর দুটি ছক্কা। ১২ রান হয়ে গেলো। ৪ বলে প্রয়োজন ১৬। তৃতীয় বলটা ইয়র্কার দিয়ে কোনমতে রান ঠেকালেন ইশান্ত।
চতুর্থ বলে বাউন্ডারি। পঞ্চম বলে আবারও ডট বল। তখনই অবশ্য জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কারণ, ১ বলে লাগবে ১২ রান। তবুও শেষ বলে ছক্কা মারলেন মিলার। শেষ ওভারে ২২ রান তুলে ফেললেন দক্ষিণ আফ্রিকান এই ব্যাটসম্যান।
সত্যিই আইপিএলে সোমবার রাতে হায়দারাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে এমনই এক শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলো। শেষ পর্যন্ত শ্বাসরূদ্ধর এই ম্যাচে মাত্র ৫ রানে জয় এলো সানরাইজার্সেরই। একই সঙ্গে প্লে-অফের লড়াইও জমিয়ে তুলল ডেভিড ওয়ার্নারের দল।
প্রিতি জিনতার দলকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদেরকে তিন নাম্বারে তুলে আনল হায়দারাবাদ। ১২ ম্যাচে ৭ জয়ে তাদের পয়েন্ট ১৪। তারা ঠেলে চতুর্থ স্থানে নামিয়ে দিল রাজস্থান রয়্যালসকে। আবার চতুর্থ স্থান থেকে পঞ্চম স্থানে নেমে গেলো রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। যদিও এক ম্যাচ কম খেলেছে বিরাট কোহলির দল।
সোমবার টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন সান রাইজার্স হায়দারাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। ওপেনিংয়েই শিখর ধাওয়ানকে নিয়ে ৫৬ রানের জুটি গড়ে ফেলেন ওয়ার্নার। ১৮ বলে ২৪ রান করে আউট হয়ে যান ধাওয়ান।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে হেনরিকসকে নিয়ে ৬৫ রানের জুটিই হায়দারাবাদকে বড় স্কোরের পথ দেখায়। ১২১ রানে এসে ২৪ বলে ব্যাক্তিগত ২৮ রানে আউট হন হেনরিকস। ইয়ন মরগ্যান ৭ বলে খেলেন ১৭ রানের ইনিংস। ৫২ বলে ৮১ রান করে আউট হন ডেভিড ওয়ার্নার। ৬টি বাউন্ডারির সাথে ৫টি ছক্কার মারও ছিল তার ব্যাটে। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে হায়দাবারাদের সংগ্রহ ১৮৫ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে মুরালি বিজয় আর মনন ভোরা ৪২ রানের জুটি গড়লেও ৬০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় পাঞ্জাব। এরপর নিয়মিত বিরতিতে ৮১ ৫ম এবং ৯৯ রানে ৬ষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। পাঞ্জাবের হার যখন প্রায় নিশ্চিত, তখনই ঝড় তোলেন ডেভিড মিলার। তার ৪৪ বলে গড়া অপরাজিত ৮৯ রানের ইনিংসটিতে ছিল ৯টি ছক্কার মার। সঙ্গে মাত্র ২টি বাউন্ডারি। তবুও জেতাতে পারলেন না পঞ্জাব কিংসদের।