• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

মুজাহিদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ, রাষ্ট্রপক্ষের শুরু

Mujahidসিসি ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন মুজাহিদের আইনজীবীরা।

বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

পরে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার যুক্তি উপস্থপন শুরু করেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলার কার্যক্রম আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেন আদালত।

আদালতে আজ মুজাহিদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও খন্দকার মাহবুব হোসেন তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন তার যুক্তিতে বলেন, ‘১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য এ আইন করা হয়েছিল। তাদেরকে ছেড়ে দিয়ে আল বদর ও আল শাসমদের বিচার হতে পারে না। মুজাহিদ ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি পদে ছিলেন। তিনি আল বদর বাহিনীরও কোনো পদে ছিলেন না।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বিশ্বাসে মুজাহিদ পাকিস্তানের পক্ষে থাকতে পারেন, কিন্তু বুদ্ধিজীবীসহ কোনো হত্যায় তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে-  তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের সময় মুজাহিদের বিরুদ্ধে ৭ নম্বর অভিযোগটি ছিল না- উল্লেখ করে, খন্দকার মাহবুব আরো বলেন, ‘অনেক পরে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগটি আনা হয়েছে। এ মামলার যাবতীয় সাক্ষ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাক্ষীরা ট্রাইব্যুনালে যে জবানবন্দি দিয়েছেন তাতে তাকে (মুজাহিদ) সাজা দেওয়া যায় না।’

‘সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে একটি অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি’- দাবি করে, এ মামলায় তিনি (মুজাহিদ) নির্দোষ প্রমাণিত হবেন বলেও আশা ব্যক্ত করেন মাহবুব। তিনি বলেন, ‘আশা করছি তিনি (মুজাহিদ) খালাস পাবেন।’
এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল ২৫ পৃষ্ঠার একটি লিখিত যুক্তি আদালতে দাখিল করে দুটি অভিযোগের বিষয়ে পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করেন।

মাহবুবে আলম বলেন, ‘সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেন হত্যার সাথে মুজাহিদ সরাসরি জড়িত না থাকলেও, তাকে ধরে নেয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছিলেন। ছাত্র সংঘের নেতা হিসেবে প্রেক্ষাপট তৈরির দায় তার।’

দুই নম্বর অভিযোগে ‘রঞ্জিত কুমার নাথ নির্যাতনের সঙ্গে মুজাহিদের সম্পৃক্ততা নাই’-  আসামিপক্ষের এমন বক্তব্যের পাল্টা যুক্তিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘মুজাহিদের সহযোগিতায় পাকি সেনারা রঞ্জিত নাথকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে। তার কথার প্রেক্ষিতেই পাকি সেনারা রঞ্জিত নাথকে খুঁজে পেতেও সক্ষম হয়।’

এই সম্পৃক্ততার জন্য ট্রাইব্যুনাল তাকে যে ৫ বছর সাজা দিয়েছে তা যথেষ্ট নয়- উল্লেখ  করে,  অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এই অভিাযোগে তার সাজা আরো বেশি হতে পারতো।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল যুক্তি উপস্থাপন শেষ হতে পারে।’ গত ১৮ মে রাষ্ট্রপক্ষে আংশিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এবং ৪, ৫, ৬, ১৭ ও ১৮ মে  আপিলে পেপারবুক পড়া শেষ করেন মুজাহিদের আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট মৃত্যুদন্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস  চেয়ে আপিল করেন মুজাহিদের আইনজীবীরা। ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনীত রাষ্ট্রপক্ষের ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ