• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার প্রয়োজন’

Khalada51433679072সিসি ডেস্ক: এশীয় অঞ্চলে নিবিড় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে দেশে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ প্রয়োজন বলে নরেন্দ্র মোদিকে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বাংলাদেশে বর্তমানে গণতন্ত্র নেই এবং বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ওপর ক্ষমতাসীনরা অত্যাচার-হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ জানান বিএনপি নেত্রী।

ঢাকা সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রোববার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে খালেদা এ কথা বলেন। রোববার বিকেল ৪টা ৫ মিনিট থেকে ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত এই বৈঠকে এসব বিষয় ছাড়া দুদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর কিছুক্ষণ ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকে করেছেন নরেন্দ্র মোদি এবং খালেদা জিয়া। বেলা ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে খালেদা হোটেল ত্যাগ করেন।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে দলের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে জানান, অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় প্রতিটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সার্ক পরিমণ্ডলে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন নিয়েও কথা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটি হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি নিয়ে।

বিএনপির পক্ষ থেকে মোদিকে অবহিত করা হয়েছে, বাংলাদেশে যদি গণতন্ত্র না থাকে তা কেবল বাংলাদেশ নয়, সেটি সমগ্র এশীয় অঞ্চলের জন্য অস্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। ‘আমরা একটি গ্লোবাল ভিলেজে বাস করি। কাজেই নিজের পরিমণ্ডলে আমি শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকব, অন্য কেউ সমস্যা সৃষ্টি করবে না এটি হতে পারে না,’ বলেন মঈন খান।

বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি অর্থাৎ বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার, দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষ থেকে তৃনমূল পর্যন্ত হাজার হাজার কর্মীর ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এর মূল কারণ গণতন্ত্রের অুনপস্থিতি। বিষয়টি আলোচনায় আপনাআপনি উঠে এসেছে।’

তিনি বলেন, ভারতে যেভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি যেভাবে তৃনমূল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, সেটি সম্ভব হয়েছে শুধু গণতন্ত্রের কারণে। কাজেই এটি অত্যন্ত স্পষ্ট, শুধু দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল নয়, বিশ্বে কোথাও গণতন্ত্র ব্যতিরেকে কোনো মানুষের কল্যাণ হতে পারে না।

মঈন খান জানান, তার দল সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছে, জনপ্রতিনিধিত্বহীন সরকার যেভাবে উন্নয়নের কথা বলছে, সেই উন্নয়ন অর্থহীন যদি সেখানে ট্রান্সপারেন্সি এবং একাউন্টিবিলিটি না থাকে। তাহলে সেই উন্নয়ন সত্যিকার অর্থে কোটি মানুষের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের চেয়ে অনেক অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট এই  প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সেই পরিস্থিতিতে যায়নি বলেও নরেন্দ্র মোদিকে জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

মঈন খান বলেন, ‘আমরা তাকে (নরেন্দ্র মোদি) অবহিত করেছি, বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন সরকারের কথায় চলে। বিচার ব্যবস্থার কাছে মানুষ বিচার পায় না। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী বিরোধীদলসহ সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার-হয়রানি করে, ব্যবসা-বাণিজ্য সব দলীয় ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। দেশে গণতন্ত্র নেই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই বিষয়গুলো আলোচনা গুরুত্ব সহকারে উঠে আসে।’

তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষের উন্নয়ন তথা দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে ঢাকা শহরে শুধু বড় বড় অবকাঠামো তৈরি করলে হবে না, মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হোটেল সোনারগাঁওয়ে আসেন খালেদা জিয়া। মোদির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির দাবি অনুযায়ী নতুন নির্বাচনে ব্যাপারে বৈঠকে কোনো কথা হয়েছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে মঈন খান বলেন, ‘ভারত সরকার যখন প্রেস কনফারেন্স করবে, তখন এই বিষয়টি তাদের জিজ্ঞাসা করলে এটি যুক্তিসঙ্গত হবে। তারা কী বলেছে তা বলা এই মুহূর্তে যুক্তিসঙ্গত হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ