• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

মোদির সফর ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

Dr.-Anis।। ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান ।। ৬ জুন ৩৬ ঘন্টার জন্য বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ বিকালেই মোদির সফরসঙ্গীদের অন্যতম পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ঢাকা আসছেন। তাই বাংলাদেশ এখন মোদি জ্বরে আক্রান্ত। মোদির এই সফরকে কেন্দ্র করে সর্বত্রই এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা । রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকাসহ দেশজুড়ে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোদি এই সফরে কী বার্তা নিয়ে আসছেন, আর এতে বাংলাদেশ-ভারতের কী অর্জন তা নিয়েও চলছে নানা হিসেবনিকাশ।

মোদির এই সফর থেকে বাংলাদেশের জন্য কোনো অর্জন আছে, না শুধুই আশা-নিরাশার দোলাচল সেই প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে! তবে সফরের আগেই মোদি সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপ যে বাংলাদেশ সরকারকে অকল্পনীয় আশাবাদী করে তুলেছে এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

তাই বলে মোদির এই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের সীমাহীন প্রত্যাশা কতটা যৌক্তিক তা পরিষ্কার হতে আমাদেরকে সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমাদের দেশের সরকারের প্রত্যাশা যতই আকাশচুম্বী হোক না কেন, সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর আর সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি ছাড়া এই সফর থেকে সরাসরি দৃশ্যমান কিছু অর্জন কঠিন হবে। নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর বক্তব্যেও এমনটিই প্রতীয়মান হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, অবশ্যই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার চেষ্টা করা হবে এবং হচ্ছে । তবে প্রত্যাশাকে শিফটিং গোলপোস্ট বানানো কোনো মতেই ঠিক হবে না।

এছাড়া আমরা জানি- এর আগে কথা ছিল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি নিয়ে মোদি আসবেন। সে অনুসারে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি নিয়ে আসছেন ঠিকই তবে তিস্তা চুক্তি যে আপতত হচ্ছে না তা সফরের আগেই জানা গেছে।

স্থল সীমানা চুক্তি, যা ভারতের সংসদের উভয় কক্ষে অনুমোদিত হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনের বিলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরও করেছেন, ফলে এই সুসংবাদটিই হয়তো তিনি দেবেন। কয়েকটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হবে। কিছু আর্থিক ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং সে ব্যাপারে চুক্তিও স্বাক্ষরিত হবে। কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যার কোনো একটির ব্যাপারে কোনো চুক্তি হবে, এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ।

ধরা যাক তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির কথা। এটি বাংলাদেশের বহুল কাঙ্খিত বিষয়। সে বিষয়ে কোনো চুক্তি হবার সম্ভাবনা আমরা দেখছি না।

বাংলাদেশ-ভারতের স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব একাধিক চুক্তি তথা এমওইউ স্বাক্ষরিত হবে- যেমনটি ভারত আরো ১৫টি রুটে ট্রানজিট চাইছে এখন। ত্রিপুরা রাজ্য সরকার চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে চাইছে প্রকাশ্যে। নৌ প্রটোকলের আওতায় নদীপথে তৃতীয় দেশের পণ্য চলাচলের যে প্রস্তাব বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে, তা বাতিলের অথবা পুনর্মূল্যায়নের দাবি করেছে ভারত।

আর মোদির সফরে এক নম্বর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে এই কানেক্টিভিটি। এই কানেক্টিভিটির আওতায় আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। অর্থ জোগাবে ভারত সরকার। কেননা প্রয়োজনটা তাদের। ত্রিপুরায় পণ্য নিয়ে যেতে হলে সড়ক যোগাযোগ উন্নত করা প্রয়োজন। এ জন্য ভারত বাংলাদেশকে ঋণ দেবে। এই ঋণ আবার সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিটে এই ঋণ পাবে বাংলাদেশ। বর্তমানে পৃথিবীর কোনো দেশই এখন আর সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিটে ঋণ নেয় না।

এছাড়া বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে একাধিক-বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, সাফটা চুক্তির আলোকে বাংলাদেশি পণ্যের ভারতে প্রবেশাধিকারের বিশেষ সুবিধা ও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, সীমান্ত হত্যা বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ভিসা ব্যবস্থা সহজীকরণ, ভুটান ও নেপালকে ট্রানজিট দেওয়া ইত্যাদি।

ইতোমধ্যেই প্রতীয়মান হয়েছে যে- নরেন্দ্র মোদি অবশ্যই আঞ্চলিক উন্নয়নের নীতিতে বিশ্বাস করেন। তাই মোদি প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি বিশ্বাস করেন, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সব অর্থনীতিকে বিকশিত হতে দিয়ে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটাতে পারে ভারত। ফলে তিনি আঞ্চলিক ও উপআঞ্চলিক দেশগুলো, বিশেষত প্রতিবেশীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চান। সেখানে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারতের ‘লুক ইস্ট’ নীতিতেও বাংলাদেশকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতের এ সদিচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে তিনি তার বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছেন প্রতিবেশী দেশগুলোকে। তিনি শুরু করেছিলেন ভুটান দিয়ে, এরপর গেছেন নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। এবার আসছেন বাংলাদেশ সফরে। কাজেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে এগিযে নেওয়ার চেষ্টা করবে আমাদের সরকারও এটাই স্বাভাবিক।

ইতোমধ্যে ভারতের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের সব বাধা দূর করা এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এটি সম্ভব হয়েছে নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার জন্য। এ জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। কারণ সীমান্ত চুক্তি ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন সময়ে সব আলোচনা ছিল অত্যন্ত দক্ষ কূটনীতিকের মতো। যদিও আগে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির সীমান্ত বিলের বিষয়ে কিছুটা আপত্তি ছিল। সে আপত্তির জায়গা থেকে সরে এসে তারা এখন বাংলাদেশীমুখী। আমাদের বিরুদ্ধে ভারতের পার্লামেন্টে একটা ভোটও পড়েনি। লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যরা তাদের ভাষণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। সেখানকার সব দলের সব সদস্য প্রশংসা করেছেন। কাজেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে সীমান্ত চুক্তি বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

কেননা, নরেন্দ্র মোদি ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশ ও নেপাল-ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চান, সেই সঙ্গে তিনি পূর্বমুখী নীতিও নিয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়া এর কোনোটিই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই নিঃসন্দেহে কানেকটিভিটিই হবে ভারতের প্রত্যাশা। ফলে ৬৮ বছর পর দুই অঞ্চলের স্থলসীমান্ত সমস্যার সমাধান হলো। এর আগে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাও নির্ধারিত হয়েছে। তিস্তা চুক্তির বিষয়েও একটা নতুন ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সব সীমানাই এখন চিহ্নিত হয়ে গেছে। কিন্তু ভারতের সঙ্গে চীন বা পাকিস্তান কারোরই এ ধরনের সমস্যার সমাধান হয়নি। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য এটি অন্যতম বিশেষ অর্জন।

আমাদের সবারই হয়তো স্মরণে আছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের শপথ অনুষ্ঠানে মোদি সার্কের সব নেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশ সফরে থাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে যোগ দিয়েছিলেন স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী।এছাড়া বিদেশমন্ত্রী হিসেবে সুষমা স্বরাজ সর্বপ্রথম বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। সব বিবেচনায়ই তার সেই সফর ফলপ্রসূ ছিল। ওই সফরে সুষমা স্বরাজ তিস্তার পানি এবং স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি হাসিনার কাছে মোদির একটি চিঠি হস্তান্তর করেছিলেন, ওই চিঠিতে মোদি দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, সুষমার সফরের এক মাসের মাথায় জাতিসংঘের পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশনের রায়ে ভারত-বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ সমাধান হয়। এভাবে আরও একটি বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্র আরও পরিষ্কার হয়। এছাড়া ধারণা করা হয়, তিস্তার পানি এবং স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাজের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত মোদি নিজেই বাধ্য হন তাঁর বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে দিতে। এপ্রেক্ষিতে একসময় তিস্তাচুক্তির চরম বিরোধীতাকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। ওই সফরে তিনি অনেকটা উচ্ছসিত কন্ঠেই তিস্তাচুক্তির বিষয়ে তাঁর ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়ে গেছেন।

অন্যদিকে বলা যায়, ১৯৭৪ সালের স্থল সীমান্ত চুক্তি বিষয়ে ইউপিএ সরকারের করা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের প্রটোকলকে বিরোধিতা করা যে বিজেপির জন্য ভুল ছিল তা অনেকটা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে মোদি সরকার । বুঝতে পেরেছে, এখন তাদের জাতীয় স্বার্থেই শেখ হাসিনা সরকারের সাথে সম্পর্ক গভীর করা।এছাড়াও মোদি সরকার মনে করছে, অনেকটা সময় পর বাংলাদেশে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সরকার পেয়েছে, যারা বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতবিরোধী বিদ্রোহীদের মূলোৎপাটন করে দিয়েছে এবং নিজের দেশে চরমপন্থীদের দমিয়ে রেখেছে। পাকিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ায় চরমপন্থীদের উত্থানের বিপরীতে শেখ হাসিনার এ সাফল্যকে বিবেচনা করছে তারা। ফলে প্রতীয়মান হয়েছে, অতীতের যে কোনো সরকারের তুলনায় হাসিনা সরকার ভারতের জন্য কল্যাণকর।

এছাড়া একটি বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে ‘সেক্যুলার’ রাষ্ট্র ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা পরিষ্কারভাবে তাদের জন্য কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনবে। তাছাড়া ভারতের পূর্বমুখী নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে বাংলাদেশ। পশ্চিম দিকে পাকিস্তান, চরমপন্থী ইসলাম এবং সন্ত্রাসবাদ দিয়ে আটকে আছে। জ্বালানি ব্যতীত পশ্চিম দিকে তাদের অর্থনৈতিক সুবিধাও অনেক কম, কারণ এটা উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এলাকা নয়। এছাড়া অনেকে যখন বলেন, অর্থনৈতিক শক্তি এখন পূর্ব দিকে চলে আসছে, তখন মূলত: আমাদের পূর্ব দিকের এশিয়াকে বোঝানো হয়। এ অঞ্চলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভারতের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বিকশিত করা উচিত, বিশেষ করে যখন এখানকার দেশগুলোই ভারতের আরও সক্রিয় ভূমিকা দেখতে চাইছে।

পশ্চিমের মতো পূর্ব দিকে পরার্থপর এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতীয় উপস্থিতির ক্ষেত্রে কোনো সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বাধা নেই। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোদি সরকারের জন্য; কারণ এটা ভারতের পূর্বমুখী নীতিকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে পারে। একইসঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর উন্নয়নেও এ সম্পর্ক ভূমিকা রাখবে। ট্রানজিট ইস্যুতে শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের অবস্থানের পরিবর্তন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বটে।

প্রটোকল: ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের প্রটোকলে কয়েকটি বিষয় সমাধানের কথা ছিল- প্রায় ৬.১ কিলোমিটার অমীমাংসিত সীমানা চিহ্নিতকরণ, ছিটমহল বিনিময়। এর ফলে অমীমাংসিত সীমানা চিহ্নিত হবে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল (প্রায় ১৭ হাজার ১৬০ একর) ও ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল (প্রায় ৭ হাজার ১১০ একর) বিনিময় হবে। প্রসঙ্গত যে, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের প্রটোকলে ভারতের সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোরও (আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ) সমর্থন ছিল। পার্লামেন্টে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদনের মাধ্যমে সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড শনাক্তকরণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। এছাড়া এখন নিরাপত্তা, বাণিজ্য, ট্রানজিট এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক বিকাশের প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।

তবে এই সফরে মোদির সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, তিনি বিগত ইউপিএ কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের ন্যায় কোনো বিশেষ দলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চান, নাকি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দ্বন্দ্বে নিজেকে না জড়িয়ে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চান!

যেখানে বাংলাদেশে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন ভারতবিরোধিতা থাকবে না, কোনো দলবিশেষের প্রতি তার সরকারের অন্ধ মদত দানেরও কোনো নীতি থাকবে না। সম্পর্ক হবে রাষ্ট্র টু রাষ্ট্র, দল টু দল নয়। সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এছাড়া সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতের সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ এবং রাজ্যসভা ও লোকসভায় তা পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। রচিত হতে যাচ্ছে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের এক নতুন মাত্রা। আর বিলটি পাস হওয়ায় ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়নেরও সকল বাধা দূর হয়েছে। এতে দু’দেশের সরকার ও জনগণ খুবই উচ্ছ্বসিত।

সবশেষে নরেদ্র মোদির এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে, সীমান্তে হত্যা-নির্যাতন বন্ধ হবে এ কামনা করেই আজ এখানেই শেষ করছি।

লেখক: গবেষক ও কলামলেখক । ই-মেইল:sarderanis@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ