কুড়িগ্রাম: দলবদ্ধ ধর্ষণের কয়েকটি ঘটনার রেশ না কাটতেই কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ধর্ষণের পর সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণ এক ছাত্রীকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার পর ‘ধর্ষকদের’ একজন ‘হৃদরোগে’ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রোববার বোয়ালমারী গ্রামে ওই মেয়ের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত যুবকের নাম আয়ুইব আলী (২২), নিহত ছাত্রীর পূর্ব পরিচিত বলে পরিবার ও পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ নাসির উদ্দিন (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
রৌমারী থানার ওসি সোহরাব হোসেন জানান, বোয়ালমারী গ্রামের মৃত আব্দুল হাই আকন্দের মেয়ে আর্জিনা খাতুন (১৬) এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছে। ঘটনার সময় আর্জিনা ছাড়া বাড়িতে কেউ ছিল না। দুপুরে আর্জিনার ‘বখাটে প্রেমিক’ আয়ুইব আলী তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ এবং গলাকেটে হত্যা করে। তাদের রান্না ঘরে লাশ পাওয়া যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় আয়ুইব আলী ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মারা যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত ছাত্রী ও তার ‘বখাটে প্রেমিকের’ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। “পরিকল্পিতভাবে তিন বখাটে ওই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে,” বলেন ওসি।
আয়ুইব আলীর মৃত্যু প্রসঙ্গে ওসি জানান, ধারণা করা হচ্ছে মেয়েটিকে জবাই করার পর ভয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরেকজনকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযানে নেমেছে বলে জানান তিনি।
নিহত স্কুল ছাত্রীর মা সাজেদা বেগম জানান, “আয়ুইব আলী মেলা দিন থিকা আমার মাইয়াকে বিরক্ত করে আসছিল। আর এ কারণে মাইয়ার বিয়া দিবার চাইছিলাম। কিন্তু শয়তানরা তাকে বাঁচতে দিল না।”