।। মোস্তফা আরিফ ।। স্বাধীনতা বিরোধী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী এ দেশের রাজনীতিতে নেতিবাচক শক্তিতে আবির্ভূত হয়েছে। এটা নতুন কোন তথ্য নয়। আদর্শগত দিক থেকে জামায়াত ইসলামী চিরকালই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এসেছে এবং ১৯৭১ সালে তাদের কৃতকর্মের জন্য আজও এদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।
জামায়াতের এ উথানে মূল ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধীদের পুর্নবাসন এবং তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলন্ঠিত করেছেন।
১৯৭৫ সালের পর থেকে আজ অবধি প্রকাশ্যে, অথবা গোপনে জামায়াতের সঙ্গে লিখিত বা অলিখিত জোট রচিত হয়েছে বিএনপির। বিশেষ করে, ১ অক্টোবর ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠন করে নিরংকুশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি।
২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চিত্রটা পাল্টে গেল। বিএনপি-জামায়াত মাত্র ৩২টি আসনে জয়ী হল। রাজাকারদের মানুষ বর্জন করল। সে নির্বাচন থেকেও বিএনপি কোন শিক্ষা নেয়নি।
জামায়াতকে বর্জন করা বা ত্যাগ করার কোন চিন্তা বিএনপির কখনই ছিল না। কিন্তু এ জামায়াত ইসলামীকে নিয়েই নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বিএনপিকে। দীর্ঘ ১৫ বছরের জোট কি তাহলে ভেঙ্গে যাচ্ছে? এখন এটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামায়াত কি বিএনপির জন্য গলার কাটা হয়ে উঠেছে? সত্যিই কি জামায়াতকে ছাড়বে বিএনপি?
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নেতা নেত্রীর বক্তব্য শুনে মনে হয়, জামায়াতকে একপেশে করে রাখতে চাচ্ছেন তারা। নিজেদের শক্তি নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হতে চাচ্ছে বিএনপি। জামায়াত নির্ভরতা হ্রাস করতে চাচ্ছে দলটি। এটাও কতটা সত্য, তা নিয়েও যথেষ্ঠ সংসয় রয়েছে।
বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগকে পরাস্ত করতে নির্বাচনে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট বেধেছে। আর এ সুযোগটাই জামায়াত কাজে লাগিয়েছে। বিএনপির হাত ধরে মন্ত্রীর পদ দখল করেছে জামায়াত। মতিউর রহমান নিজামীর মত যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, মানবতার শত্রু এদেশের মন্ত্রী পর্যায়ে আসীন হতে দেখে মুক্তিযোদ্ধারা তখন কেঁদেছেন।
২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর থেকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামায়াত ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী ওঠে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে বেশ কয়েকজন সদস্য জামায়াতের রাজনীতির বিরোধিতা করলেও দলগতভাবে বিএনপি চুপ করে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, জামায়াত নামক দুর্গন্ধ থেকে দূরে সরে থাকতে চাচ্ছে।
দলটির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন,‘জামায়াতের সাথে বিএনপির আদর্শিক নয়, ভোট ও রাজনৈতিক জোট হয়েছে।’ তার এ বক্তব্যের সূত্র ধরেই বলা যায়, জামায়াত ইসলামী স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, এ রকম একটি দলের সঙ্গে ভোটের জন্য জোট করতে হয় কেন?
ড. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যে একটি বিষয় পরিস্কার হয়ে যায়, আর তা হচ্ছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জিততে স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলাতে আপত্তি নেই বিএনপির। সেটাই করে আসছে বিএনপি।
ভোটের প্রশ্ন যখন এসেই গেল, তখন একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিস্কার করতে হয়। ১৯৯৬ সালে জামায়াত ইসলামী কারো সঙ্গে জোট না বেঁধে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। সেই নির্বাচনে পাবনা-১ আসন থেকে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী পেয়েছিল শতকরা ২৩ দশমিক ৯২ ভাগ ভোট, আর বিএনপি প্রার্থী শতকরা ৩৩ দশমিক ২০ ভাগ ভোট অর্জন করে। দু’জনের সম্মিলিত ভোটের পরিমাণ শতকরা ৫৭ দশমিক ১২ ভাগ। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শতকরা ৪১ দশমিক ৫০ ভাগ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
২০০১ সালে নির্বাচনে চিত্রটা পাল্টে গেল। নিজামী শতকরা ৫৭ দশমিক ৬৮ ভাগ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আওয়ামী প্রার্থী পান শতকরা ৪১ দশমিক ৬২ ভাগ। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি জোট গঠন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হল বটে, পরোক্ষভাবে জামায়াতকেই প্রতিষ্ঠা করল। জামায়াতের কাছে বিএনপির অনেক ঋণ ছিল বা আছে, সেই দায় থেকে মুক্তি পেতে জামায়াতকে জামাই আদরে রেখেছিল বিএনপি।
বিএনপি আদর্শে বিশ্বাসী ও সমর্থকরা জামায়াতকে সমর্থন করে তাদের ভোট দিচ্ছেন। রাজাকারদের প্রতি দরদ উথলে উঠে বিএনপির। এ বাস্তবতার বিচারে বিএনপি কখনই জামায়াত ছাড়বে না। বিএনপির কাছে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবী করা আর বোকার স্বর্গে বাস করা সমান কথা।
বিএনপির সিনিয়র নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার বইতে লিখেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম আযমের নিয়োগ এবং তার নাগরিকত্ব ফেরতদানের শর্তে খালেদা জিয়াকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছিল জামায়াত। জনগণের চাপে পড়ে বিএনপি এ শর্ত মানেনি।’
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সঙ্গে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের গোপন বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে তাতে একটি বিষয় পরিস্কার হয়ে গেছে, জামায়াতের সংগ বর্জন না করলে বিএনপি টিকবে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বিকল্প ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের বিএনপি আর নেই। জিয়াউর রহমান সাধারণ জনগণের মাঝে ছুটে যেতেন। সারা দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন । বিএনপিকে বাঁচাতে হলে গ্রামে গঞ্জে ছুটে যেতে হবে। জামায়াত নির্ভর হলে হবে না। জামায়াতকে ছেড়ে তৃণমূলে ছুটে যেতে হবে। এর দায়িত্ব নিতে হবে খালেদা জিয়াকে।’ সোনারগাঁও হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির এ বক্তব্য বিএনপির নেতৃবৃন্দের কর্ণকুহরে প্রবেশ করেছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ঠ সংশয় রয়েছে। অভিজ্ঞ এ রাজনীতিবীদ বিষয়টি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
বাস্তবিক অর্থে, বিএনপির আর কি করার আছে? হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও, আন্দোলন কোন কিছুই বাকি রাখেনি। অবশ্য এসব আন্দোলনে বিএনপির নেতা কর্মীদের উৎসাহ উদ্দীপনা ও সম্পৃক্ততা নিয়ে দলের মধ্যে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে।
বিএনপির বহু শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে, যারা সরকারের হয়ে, দলের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করছে, সরকারের কাছ থেকে অর্থকড়ি, ব্যবসা বাণিজ্য সুযোগ সুবিধা নিয়ে দলের ক্ষতি করছেন। এসব কথা কতটা সত্য তা যাচাই করার সুযোগ নেই।
দীর্ঘ তিন মাস আন্দোলন করেছে বিএনপি। আন্দোলনের ফলাফল শুন্য। রেল, বাস, ট্রেনে আগুন লাগানো, মানুষকে পুড়িয়ে মারা ছাড়া আর কোন সাফল্য নেই তাদের। ২০১৩ সালের শেষ দিকে আন্দোলন শুরু করেছিল আর শেষ করেছিল ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে। ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম করেও নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখতে পারেননি তারা। ২০১৫ সালের জানুয়ারীতে আবারও রাজপথ রক্তাক্ত করল, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করল, তারপর একসময় নিস্তেজ হয়ে পড়ল।
বাস্তবিক অর্থে আন্দোলনের সব গতি, কৌশল, লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছে জাতীয়তাবাদী দল। তাদের অভিযোগ, সরকারের পুলিশ, গোয়েন্দা ও পেটুয়া বাহিনী বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঠে নামতে দিচ্ছে না। রাজনীতিতে এত বালখিল্যের মত আচরণ করবে বিএনপি, বিশেষ করে যে দলটি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তিন বার ক্ষমতায় আরোহন করেছে তাদের বর্তমান হাল দেখলে বিস্মিত হতে হয় বৈকি!
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ৩০ টি আসনে জয়ী হয়, প্রদত্ত ভোটের শতকরা ৩৩দশমিক ২০ ভাগ ভোট পেয়েছিল তারা। এক অর্থে বিএনপির ভোট প্রায় শতকরা ৩৪ শতাংশ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ৩৪ শতাংশ ভোটারের প্রতি কি বিএনপির কোন দায় দায়িত্ব নেই? দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের হাব ভাবে সেটাই মনে হয়।
হামলা মোকদ্দমা আর পুলিশি হয়রানির অভিযোগ করছে বিএনপির নেতৃবৃন্দ, যা ধোপে টেকে না। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর পুলিশ হামলা করে, মামলা দেয়, এটা নতুন কিছু নয়। বিএনপির মনে রাখা উচিত বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়মী লীগ এবং ১৪ দলীয় জোট কখনোই বেগম খালেদা জিয়ার জনসভায় গ্রেনেড হামলা করেনি, যেটা ২০০৪ সালে ক্ষমতাসীন চারদলীয় জোটের আমলে হয়েছিল।
পুলিশ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জেলে পুরে রেখেছে, তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, আর এ জন্য নেতাকর্মীরা রাজপথে নামতে পারছেন না। এ সব ছেলে মানুষী কথাবার্তায় কোন সুফল বয়ে আনবে কি দলটির জন্য?
বিএনপির মূল সমস্যা হচ্ছে অতি মাত্রায় জামায়াত ইসলামী দলের উপর নির্ভরতা। যদিও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এ বক্তব্য অস্বীকার করে আসছেন। বেগম খালেদা জিয়া ও তার আদর্শের সৈনিকরা কখনোই বুঝতে চান না এটা ১৯৯০ সাল নয়, এটা ২০১৫।
সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে বিএনপি কম কসরত করেনি। আপাত দৃষ্টিতে তাদের সব আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবেশিত হয়েছে। ভাবতে অবাক লাগে, যে দলটির শতকরা ৩৪ ভাগ ভোট রয়েছে তাদের কিনা নির্ভর করতে হয় জামায়াত ইসলামীর উপর। আবার এমনও দেখা গেছে হেফাজত-ই-ইসলামের উপর ভর করে ১৪ দলীয় জোট সরকারের পতন ঘটানোর স্বপ্নে বিভোর ছিল বিএনপি। রাজনীতিতে এতটাই ছেলে মানুষী করবে বিএনপি তা ভাবতে অবাক লাগে।
আর একটি বিষয় ভাবলে অবাক হতে হয়। এ দেশের ১৬ কোটি মানুষ ভালে করেই জানে বিএনপি সব সময় ভারত বিরোধী মনোভাব পোষণ করে। কিন্তু আশ্চর্য্য বিষয় হলেও সত্যি, বিএনপির নেতাকর্মীরা ২০১৪ সালে ভারতের লোক সভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি যেন ক্ষমতায় আসে সে চিন্তা করছিল (প্রার্থনা করছিল বলব না।) ।
আবার বিএনপির নেত্রী ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে দেখা করেননি। অবশ্য এ ব্যাপারে মুখ খুলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রাণনাশের হুমকি ছিল বলে প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারেননি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করার পর থেকে বিএনপি বেশ উচ্ছ্বসিত, নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে এমন কি বার্তা বিএনপি পেল তা তারাই ভাল জানেন। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পূর্বেই ভারত বিরোধী মনোভাব মুছে ফেলার জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে বিএনপি।
দেশী বিদেশী সব মহলের লবিং গ্রুপিং, হাজার দেন দরবার করেও আওয়মী লীগ তথা ১৪ দলীয় জোটের পতন ঘটাতে পারেনি বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট। তাদের তত্বাবধায়ক সরকারের দাবী মেনে নেয়নি আওয়ামী লীগ। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবী বিএনপির স্বপ্নই থেকে যাবে কি?
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। অবশ্য নির্বাচনের দিন দুপুর ১২ টার মধ্যেই নির্বচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে বর্জনের ঘোষণা দেয় এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়।
রাজনীতিতে পিছু হটা, তাতে বিএনপির কি লাভ হয়েছে তারাই ভাল বলতে পারবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানা গেছে আগামী নভেম্বরে সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলবে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে একটাই-আবার মানুষ খুন,বাসে আগুন, চলাচলে বাধাঁ সৃষ্টি।
বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রায়ই বলেন তারা নিরব বিপ্লব ঘটাতে চান। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের সময় বিএনপি নেত্রী ভোট বর্জন করে নিরব বিপ্লবের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপরেও ভোট ঠেকানো যায়নি। আগামী নভেম্বরে সরকার বিরোধী আন্দোলনে জোয়ার আসবে তার নিশ্চয়তা কি? সবশেষে এটাই বলা যায়, বিএনপির গন্তব্য কোথায় এবং কোন পথে?
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট