।। আলফাজ আনাম ।। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে। গায়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পোশাক। পরনে লুঙ্গি। হাতে হাতকড়া। মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ফেসবুকে দেয়া হয়েছে এরকম কয়েকটি ছবি। ছবির মানুষটি বিজিবির নায়েক আবদুর রাজ্জাক। গত ১৭ জুন নাফ নদীতে দায়িত্ব পালনের সময় তাকে ধরে নিয়ে যায় বিজিপি। এ সময় মিয়ানমার বর্ডার গার্ডের সাথে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ডের সদস্যদের গুলিবিনিময় হয়। এ সময় বিপ্লব কুমার নামে আরো একজন বিজিবি সদস্য আহত হন। যিনি এখন চিকিৎসাধীন। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা নায়েক আবদুর রাজ্জাককে ধরে নিয়ে গিয়ে একটি পুলিশ ক্যাম্পে হাতকড়া পরিয়ে রাখে।
এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়নি। বিজিবির একজন সদস্যকে এভাবে হাতকড়া পরিয়ে তা গণমাধ্যমে প্রচার বিশেষ করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ফেসবুকে প্রচার যে উদ্দেশ্যমূলক তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এর মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। বিজিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, বিজিপির এই ছবি প্রকাশ বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে আঘাত হেনেছে। শুধু হৃদয়ে আঘাত নয়, মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সাধারণ কোনো বাংলাদেশী নাগরিক নন, সীমান্তরক্ষায় নিয়োজিত একজন সৈনিকের হাতকড়া পরা ছবি এ দেশের মানুষকে দেখতে হবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
সীমান্ত রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী বলে পরিচিত বিডিআর থেকে বিজিবির প্রতি এ দেশের মানুষের যে সম্মান ও আত্মমর্যাদার জায়গা ছিল তাতে আঘাত লেগেছে। প্রকৃতপক্ষে এ দেশের যেকোনো মানুষ এই ছবি দেখে হতাশায় ভেঙে পড়বে। এখন মিয়ানমার বিজিবির সদস্যকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়। অথচ মাদকপাচারকারীদের ধরার জন্য একটি নৌকা তল্লাশির সময় বাংলাদেশের জলভাগ থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের এই ঔদ্ধত্য আচরণের পেছনের কারণ বা উদ্দেশ্য বোঝা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। কেন মিয়ানমার বিজিবির সাথে এমন আচরণ করার সাহস পাচ্ছে, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।
মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সীমান্তসংঘর্ষের ঘটনা এবার প্রথম ঘটেছে এমন নয়। এর আগেও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার এমন অবমাননাকর কাজ কখনো করতে সাহস পায়নি। এবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এক ধরনের শীতল প্রতিক্রিয়া দেখানো হচ্ছে।
১৯৯১ সালে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা বিডিআর ক্যাম্পে হামলা করে তিন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করেছিল এবং অস্ত্র নিয়ে গিয়েছিল। বিডিআরের পক্ষ থেকে তখন এতটাই চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল যে, মিয়ানমারের সে সময়ের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নাসাকা শুধু অস্ত্র ফেরতই দেয়নি, আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছিল। এর পর থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে এমন ধরনের ঘটনা দীর্ঘ দিন ঘটেনি।
এরপর ২০১৪ সালের মে মাসে আবার মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বিজিবির সদস্য মিজানুর রহমানকে হত্যা করে মিয়ানমার সীমান্তে নিয়ে যায়। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলে মিয়ানমার লাশ ফেরত দিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। এবার বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ধরে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখেছে। মিয়ানমারের এই আচরণ বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতি অবজ্ঞার চরম বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।
এবার বিজিবি সদস্যকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পতাকা বৈঠকে বসতে পর্যন্ত মিয়ানমার অস্বীকার করছে। সর্বশেষ মিয়ানমারের পক্ষ থেকে শর্ত আরোপ করা হয়েছে দেশটির ৫৫০ জন অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশ গ্রহণ করলে কেবল নায়েক রাজ্জাককে ফিরিয়ে দেয়া হবে। এরা সবাই বাংলাদেশী তা নিশ্চিত না হয়ে মিয়ানমারের এই দাবি মেনে নেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়কে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যদিও বিজিবির মহাপরিচালক চীন থেকে এক বার্তায় জানিয়েছেন নিঃশর্তভাবে হাতিয়ারসহ নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার।
প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এ সময় মিয়ানমার এমন আচরণ করছে? অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এ ঘটনার সাথে মিয়ানমারের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী ৯ জুন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঢুকে উত্তরপূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এ খবর ভারতের মন্ত্রীদের বরাত দিয়ে প্রচার হওয়ার পর মিয়ানমারের সামরিক সরকার প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে। দেশটির অভ্যন্তরে ভারতীয় সেনাবাহিনী অভিযান চালানোর খবর মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদী চেতনার ওপর প্রবল আঘাত হানে। এ বছর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানের এই খবর মিয়ানমারের সেনা শাসকদের সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি করে। মিয়ানমার সরকার দ্রুত নিজ দেশের ভেতরে এই অভিযানের খবর অস্বীকার করে। অভিযানের খবর মিয়ানমারের অস্বীকার করা ছিল ভারতের জন্য বিব্রতকর। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল নেপিডো সফর করেন। কিন্তু সমালোচনা চলতে থাকে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ইমেজ পুনরুদ্ধারের জন্য এবং এই পরিস্থিতি থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য বাংলাদেশের একজন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
লক্ষ করার বিষয় হচ্ছে, আটক বিজিবির এই সদস্যের ছবি মিয়ানমারের সংবাদপত্রগুলোতে শুধু প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ফেসবুক পেজে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মিয়ানমারের জনগণের সামনে এ ধারণা দেয়া হচ্ছে যে, সীমান্তরক্ষায় এই বাহিনী কতটা তৎপর যে বাংলাদেশের একজন সীমান্তরক্ষীকে ধরে এনে হাতকড়া পরিয়ে রেখেছে। একজন সৈন্যকে হত্যার চেয়ে এ ধরনের ছবি মানুষের মধ্যে অধিকতর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
মিয়ানমারের সামরিক সরকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ফায়দা লোটার জন্য যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, আটক বিজিবি সদস্যের বিচারের ঘোষণা পরবর্তীতে অবৈধ অভিবাসীদের বাংলাদেশে নেয়ার শর্তারোপের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হচ্ছে। মিয়ানমারের কৌশল হচ্ছে এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যেমন তারা প্রমাণ করতে চায়, তেমনি রোহিঙ্গাবিরোধী উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাব তীব্র করতে চাইছে যাতে সেনাবাহিনীর প্রতি জনসমর্থন বাড়ে।
মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ বা বিজিপি দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি অংশ। এই বাহিনীকে সরাসরি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই বাহিনী পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিপিকে অনেকটাই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে বেশ কিছু সেনা ছাউনি স্থাপন করেছে মিয়ানমার। বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার সেনা উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এমনকি সিতওয়া বিমানবন্দরের রানওয়েকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। যেখানে মিগ-২৯ ওঠানামা করতে পারে। মিয়ানমারের এই সামরিক সক্ষমতা ও উপস্থিতির ব্যাপারে বাংলাদেশের সতর্ক পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
বিজিবির এই সদস্যকে ধরে নেয়ার পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ভুল বোঝাবুঝির কথা বলছেন তা দুর্ভাগ্যজনক। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের স্পর্শকাতরতার দিকটি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অতীতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পাল্টা চাপ প্রয়োগের নীতি অনেক বেশি কার্যকর হয়েছিল। এবার সে ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সর্বশেষ বলেছেন, এ নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্যকে ধরে নিয়ে আটকে রাখার পরও এমন প্রতিক্রিয়া খানিকটা অবিশ^াস্য বটে। সম্ভবত আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই ঘটনার গভীরতা অনুধাবন করতে পারছে না। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্যকে আটকে রেখে বিচারের হুমকি দেয়া কিংবা মুক্তির জন্য শর্তারোপ শুধু এই বাহিনীর ওপর প্রভাব ফেলবে না, সীমান্ত রক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাতেও এতে চিড় ধরতে পারে। এ ছাড়া মিয়ানমার এমন কোনো প্রবল শক্তিধর দেশ নয় যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কিংবা পাল্টা চাপ প্রয়োগের মতো সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। এর মানে এই নয় যে, মিয়ানমারে সাথে বাংলাদেশের যুদ্ধ করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে এমন বার্তা অন্তত মিয়ানমারকে দেয়া উচিত।
ভারত ছাড়া বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিবেশী দেশ হচ্ছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়া দেশটির সাথে বাংলাদেশের বড় কোনো সমস্যা নেই। রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের সৃষ্ট কোনো সমস্যা নয় । মিয়ানমার সরকারের নিপীড়নের কারণে দেশ ত্যাগ করে আসা হাজার হাজার মানুষকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। মিয়ানমার সরকারের নিপীড়নের বোঝা বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিপন্ন ও নিপীড়নের শিকার এসব মানুষকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে তাকেও নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মিয়ানমারের নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের যে সোচ্চার অবস্থান নেয়া উচিত ছিল তা না থাকায় মিয়ানমার এখন বাংলাদেশবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এমনকি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিত করা হচ্ছে। কিছু দিন আগে নৌকায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা যখন ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া যাচ্ছিল, তখন মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী এসব মানুষকে বাংলাদেশী হিসেবে অভিহিত করে অভাবের তাড়নায় বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন।
আমরা লক্ষ করছি, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে এশিয়ার পরাশক্তি হয়ে ওঠা প্রতিবেশী দেশ ভারত নীরব। পশ্চিমা দেশগুলো এ ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর কিছুটা চাপ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করলেও নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে ভারত নিশ্চুপ ভূমিকা গ্রহণ করছে। মনে হচ্ছে মিয়ানমার সরকারের নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ভারতের নীরব সমর্থন রয়েছে।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারতের পক্ষপুটে থাকা দেশ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এত দিন বাংলাদেশ যে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করেছিল, এখন সেই অবস্থানে নেই। ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চল, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ ঘিরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা টানাপড়েনের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চীনের সাথে ভারতের দ্বন্দ্ব এখন অনেকটাই প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। ভারতের মন্ত্রী বলেছেন, দেশটির সেনাবাহিনী মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অভিযান চালানোর মাধ্যমে চীনকে বিশেষ বার্তা দেয়া হয়েছে। চীনকে মোকাবেলার মতো সামরিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য এখনো ভারত অর্জন করতে পারেনি। ভারতের এই বার্তা চীন কিভাবে নেবে তা দেখার বিষয়। এমন আঞ্চলিক রাজনীতির দ্বন্দ্ব থেকে বাংলাদেশের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত ছিল। একপক্ষে অবস্থানের ফলে বাংলাদেশ দাবার ঘুঁটি হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশকে তার মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব নিজেকেই রক্ষা করতে হবে। অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা বাংলাদেশকে হাতকড়া পরাবে। বিজিবির সদস্যকে ধরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার ঘটনাকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার জন্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
alfazanambd@yahoo.com