হাবিবুর রহমান, চিলমারী : কুড়িগ্রামের চিলমারীর নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনো প্রায় ১০ হাজার মানুষ রয়েছে পানি বন্দি। যাদের ঘরে বন্যার পানি উঠায় অন্যত্র নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাদের অনেকেই ঘরে ফিরে গেছেন। তবে নিন্মাঅঞ্চলের ও চরাঞ্চলেরর নিচু এলাকাগুলো এখনও বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় সেসব এলাকার লোকজন এখনও রয়েছেন বিপাকে। তাছাড়া ঘরে খাবার না থাকায় কর্মহীন বন্যার্ত মানুষ বিপাকে পড়েছেন। বন্যা কবলিত এলাকার রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। উপদ্রুপ এলাকায় ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
এবারের বন্যায় সবছেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবি মানুষ জন। বন্যার পানি নেমে গেলেও দুর্গত এলাকার লোকজনের হাতে কাজ না থাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছে তারা। চরাঞ্চলসহ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, হাতে পায়ে ঘাসহ নানা পানি বাহিত রোগ। খোজ নিয়ে জানা গেছে বন্যা ও অতি বৃষ্টিতে উপজেলায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার কাচা-পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায় প্রায় ১৭ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ বন্যায় ভাঙ্গনের ঝুকিতে পড়েছে। প্রায় ৩ সপ্তাহের বন্যায় চারন ভুমির গো খাদ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গবাদী পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বানভাসীরা। প্রানী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে উপজেলার চরাঞ্চলসহ নি¤œাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখী খাদ্য সংকটে পড়েছে। বন্যা চারন ভুমির কাচা ঘাস পচে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে গরু, ছাগল ও ভেড়ার মালিকরা। অপর দিকে এ বন্যা ও অতি বৃষ্টিতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের জমির রোপা আমন, বীজতলা ও মৌসুমী ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দুঃচিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। অপরদিকে বন্যা পরিস্থিতি একটু উন্নতি হলেওে চিলমারী ইউনিয়নের তেলীপাড়া, চরুয়াপাড়া এবং নয়ারহাট, রমনা, অষ্টমীরচর ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দী রয়েছেন বলে সংশিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সূত্রে জানা গেছে। এদিকে বন্যা কবলিত হাজার হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র ১হাজার মানুষের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরন করা হয়েছে।