ঢাকা: ব্রাজিল থেকে নিম্নমানের গম আমদানি করায় খাদ্যমন্ত্রীসহ জড়িত অন্যদের শাস্তি চেয়েছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি। একইসঙ্গে দিনমজুররা কেন এ গম খাবে- সরকারের কাছে তার জবাবও চেয়েছে সংগঠনটি। আলোচিত এই গমের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী অবশ্য বলছেন, এ গম খাওয়ার উপযোগী। তবে ৩০ জুন এই গমের বিষয়ে একটি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট, যাতে এই গম খাওয়ার উপযোগী কি না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গ্রামীণ প্রকল্পে নিন্মমানের গম বরাদ্দের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বলা হয়- ৪শ কোটি টাকা ব্যয় করেও আমদানীকৃত নিন্মমানের দেড় লাখ টন গম পুলিশসহ যাদের দেয়া হয়েছিল তা তারা ফিরিয়ে দেয়। দুর্গন্ধযুক্ত, নোংরা এ গম সরকার গ্রামের বিভিন্ন কর্মসূচী ও প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছে। গ্রামের দরিদ্র ক্ষেতমজুরসহ দিনমজুররা কেন এ গম খাবে? সরকার গ্রামের এই দরিদ্র মানুষদের মানুষ মনে করলে তা তাদের খাওয়ার জন্য দিতে পারতো না।
বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এরআগে ২৭ জুনও পচা গম আমদানির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি চেয়ে সমাবেশ করেছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
ক্ষেতমজুর সমিতির নেতারা অবিলম্বে নিন্মমানের ও খাওয়ার অনুপযোগী এসব গম গ্রামীণ প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে প্রত্যাহার করার দাবি জানান।
দেশের কৃষকের কাছ থেকে লাভজনক দামে গম কেনার আহ্বান জানিয়ে সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার নিজেদের পছন্দের লোকদের কাছ থেকে গম কিনছে। ফলে কৃষকরা গমের প্রকৃত দাম পাচ্ছে না। তাই পছন্দের লোক নয় গম কিনতে হবে কৃষকের কাছ থেকে।
সংগঠনটির সহ-সভাপতি ডা. ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা, সহ-সভাপতি সৈয়দ আহমেদ, মোতালেব হোসেন, অর্ণব সরকার, হীরক পাশা, আরিফুর ইসলাম নাদিম প্রমুখ।



