সিসি ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২ ছিটমহলের বাসিন্দাদের সংখ্যা ও তাদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে যৌথ জরিপ কাজ শুরু হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরে দাসিয়ারছড়া ছিটমহলে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার তবারক উল্ল্যা, ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মাহমুদ প্রমুখ।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টায় লালমনিরহাটের ভিতরকুঠি দাসপতাই ছিটমহল থেকে এই জরিপ কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশে ১১১টি ভারতীয় ছিটমহলে ৬৮জন এবং ভারতে ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহলে ৩৪ সদস্যের যৌথদল গণনায় অংশ নিচ্ছেন।
২০১১ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী ছিটমহলবাসীদের নাগরিকত্ব নির্ধারণ এবং জনগণনা হালনাগাদের এ কার্যক্রম চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত। হালনাগাদ কার্যক্রমে ২০১১ সালের পর ছিটমহলে জন্ম নেওয়া শিশু ও বৈবাহিক সুত্রে ছিটমহলের বাসিন্দা হলে তাদেরকেই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সোমবারের শুরু হওয়া জনগণনা কার্যক্রম আগামী ১৬ জুলাই শেষ হলে ২০ জুলাই সব তথ্য প্রকাশ করা হবে। সেখানেই জানানো হবে, কারা এবং কতজন ভারতে যেতে ইচ্ছুক, কারা এবং কতজন বাংলাদেশে আসতে ইচ্ছুক এবং কারা পূর্বের ঠিকানায় বসবাস করতে ইচ্ছুককারীদের সংখ্যা। এ ক্ষেত্রে যারা ঠিকানা পরিবর্তনে ইচ্ছুক তাদের জন্য ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ছিটমহলগুলো বিনিময় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এসব নাগরিককে ভারত সরকার ভারতে এবং বাংলাদেশি সরকার বাংলাদেশে পুর্নবাসন সরকারিভাবে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের সবচেয়ে বড় ছিটমহল দাসিয়ার ছড়াসহ কুড়িগ্রাম জেলার অভ্যন্তরে ১২টি ছিটমহলে যৌথভাবে দু’দেশের ১০ টি সমীক্ষা টিম কাজ শুরু করছেন। প্রতিটি টিমে ভারতের একজন ও বাংলাদেশের একজন করে কাজ করছেন।
১৯৭৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী এ সমীক্ষা কাজের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে কে কোন দেশের নাগরিক হতে চায়। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এ নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবে ছিটবাসীরা।
এছাড়া নাগরিকত্ব নির্ধারণ ও জনগণনা হালনাগাদ নির্বিঘ্নে করার পাশাপাশি অন্যান্য জটিলতা এড়াতে গত ২২ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ছিটমহলের জমি ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ রাখাসহ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তসমূহ বিজ্ঞপ্তি আকারে ছিটমহবাসীদের অবগত করা হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের এবং ৫১টি ছিটমহল ভারতের অন্তর্ভূক্ত হবে।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সভাপতি মঈনুল হক জানান, একযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরে ১৬২টি ছিটমহলে ৭৫টি টিম দু’দেশের যৌথ সমীক্ষা কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরে ২৫টি ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৫০টি টিম কাজ করছে। প্রতি টিমে একজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় রয়েছেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ছিটমহলগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় ১০টি, লালমনিরহাট জেলায় ২০টি, পঞ্চগড় জেলায় ১৯টি এবং নীলফামারী জেলায় একটি সমীক্ষা টিম কাজ করছে। আমরা মনে করি এ সমীক্ষার মধ্যদিয়ে নাগরিকত্ব নিয়ে আর কোন জটিলতা থাকবে না।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, সোমবার থেকে ছিটমহল গুলোতে নাগরিকত্ব নির্ধারনের সমীক্ষা শুরু হয়েছে। দু’দেশের গণনাকারী ও সুপারভাইজাররা এ কাজ করছেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করছি।
পাটগ্রাম উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবেই প্রত্যেকটি ছিটমহলে জনগণনাকারী পাঠানো হয়েছে। পাটগ্রাম উপজেলার অভ্যন্তরে থাকা ৫৫টি ছিটমহলে দ্বিতীয় দফার জনগণনার কাজে ১৫টি টিম কার্যক্রম একযোগে শুরু করে। একই সঙ্গে হাতীবান্ধা উপজেলার ২টি ছিটমহলে ২টি টিম ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার ২টি ছিটমহলে ৩টি টিম জনগণনা কার্যক্রম একই সঙ্গে শুরু হয়েছে। তবে এসব জনগণনাকারী প্রত্যেক টিমকে প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য পঞ্চগড়কে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করা হয়েছে।
এছাড়া লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও নীলফামারীর ডিমলাকে লালমনিরহাটের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। আবার কুড়িগ্রামের সঙ্গে লালমনিরহাটের সদর উপজেলার ২টি ছিটমহলের জনগণনাকারীদের একিভূত করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় দফার এ কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম জানান, ‘২০১১ সালের জনগণনার তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেক ছিটমহলে বসবাসকারী অধিবাসীদের হালনাগাদ শুমারি কাজ শুরু হয়েছে। তবে ২০১১ সালের জনগণনার পর হতে যেসব নতুন শিশুর জন্ম হয়েছে। কেবল সেসব শিশুকে তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আরো যুক্ত হচ্ছে, যারা নতুনভাবে বিবাহ সূত্রে বধু হয়ে এসেছেন। ২০১১ সালের জনগণনার পর যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে। তবে ছিটমহলবাসীদের পছন্দ অনুযায়ী এবং নির্দিষ্ট করে কোন দেশের নাগরিকত্ব নিতে চাইলে তা অবশ্যই ফরমে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া জনগণনায় প্রধান টার্গেট হচ্ছে কে কোন দেশের নাগরিক হতে চায়।