• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

শুভ জন্মদিন রাবি

Rajshahi_University1436185986 রাজশাহী: ১৯৫৩ সালে রোপণ করা বীজটি আজ বিশাল মহিরুহে পরিণত হয়েছে। ওই বছরের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক পরিষদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয়। একই বছরের ৬ জুলাই ড. ইৎরাত হোসেন জুবেরীকে উপাচার্য করে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেই সময় পদ্মাপাড়ের বড় কুঠি ও রাজশাহী কলেজের বিভিন্ন ভবনে প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।

পরে ১৯৬১ সালে বড় কুঠি থেকে নয়নাভিরাম মতিহারের এ সবুজ চত্বরে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। রাজশাহী শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত এ ক্যাম্পাসটি ৩০৩ দশমিক ৮০ হেক্টর জমিতে স্থাপিত। শুরুতে দর্শন, ইতিহাস, বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, গণিত ও আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদের অধীনে ৫০টি বিভাগ রয়েছে। তা ছাড়া উচ্চতর গবেষণার জন্য রয়েছে ৫টি ইনস্টিটিউট। মোট শিক্ষক রয়েছেন প্রায় সাড়ে ১২শ জন। শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ৩৩ হাজার। নির্মাণাধীন একটি ছাত্রী হলসহ মোট ১৭টি আবাসিক হল, ৮টি একাডেমিক ভবন, বিশাল মিলনায়তন, মসজিদ, মন্দির, স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে।

এ পর্যায়ে আসতে নানা চড়াই-উৎরাই ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে পেরিয়ে গেছে ৬২ বছর। এ দীর্ঘ সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা নিয়ে অনেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রেখেছেন।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সোমবার উদযাপন করেছে রাবি প্রশাসন।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টার দিকে সিনেট ভবন চত্বরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এর পরপরই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন জাতীয় পতাকা, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা এবং প্রাধ্যক্ষবৃন্দ নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর শান্তির প্রতীক পায়রা ও বর্ণিল বেলুন-ফেস্টুন ওড়ানোর পর ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশ^বিদ্যালয় উপাচার্য।

এ সময় অন্যান্যদের মাঝে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মু. এন্তাজুল হক, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. ছাদেকুল আরেফিন, প্রক্টর অধ্যাপক মো. তারিকুল হাসান, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. ইলিয়াছ হোসেন প্রমুখ। এরপর অতিথিবৃন্দ সিনেট ভবন চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে সিনেট ভবনে ‘গৌরবের ৬২ বছর’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয় ।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘দেশের অন্যতম শীর্ষ এ বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৬২ বছর ধরে যুগোপযোগী শিক্ষা বিস্তারে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও প্রসারের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশ, জাতি ও সমাজকে আলোকিত করেছে। জাতির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও এর বীরোচিত অবদান আছে। এ দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. সামসুজ্জোহা ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষক।’

বক্তারা আরো বলেন, ‘আমরা যদি দেশ, জাতি-সমাজ তথা সামগ্রিকভাবে বিশ্ব মানবতার কল্যাণে নিজেদের বিকশিত করতে পারি তবেই আমাদের শিক্ষা অর্থবহ হবে। মানবিক মূল্যবোধে বিকশিত আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত পরিপূর্ণ মানুষ গড়ে তোলাই অন্যতম লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থার উপর একটি স্লাইড শো অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিশ^বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মু. এন্তাজুল হক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ