সিসি ডেস্ক: সঙ্কট দূর করতে ২০১১ সালে ৭০টি মিটারগেজ লোকমোটিভ রেলওয়ে ইঞ্জিন ক্রয় প্রকল্প হাতে নেয় রেল বিভাগ। টেন্ডার ফাইন্যান্সের (সর্বোচ্চ ১৫ বছরে পরিশোধযোগ্য) মাধ্যমে ইঞ্জিনগুলো কেনার কথা ছিল; কিন্তু ৪ বছরে প্রকল্পের দরপত্রের কার্যক্রমই শেষ হয়নি। এ কারণে কেনা হয়নি ইঞ্জিনও। অনেক সময় চলে যাওয়ায় বেড়ে যাবে প্রকল্প ব্যয়।
জানা গেছে, ট্রেন পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়াতে ২০১২ সালে ২ হাজার কোটি টাকার ৭০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন ক্রয় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। টেন্ডার ফাইন্যান্সের মাধ্যমে ইঞ্জিনগুলো কেনার জন্য তিনবার দরপত্র আহ্বান করে রেলওয়ে; কিন্তু কঠিন শর্তের কারণে দুই দফা দরপত্র বাতিল করা হয়। এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক দুলাল কুমার রায় বলেন, রেলওয়ের ৭০টি মিটারগেজ লোকমোটিভ ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়া অনেক দিন থেকেই চলছে। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনা শেষে প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা হবে। এখন দরপত্র মূল্যায়ন কাজ চলছে। তবে দরপত্রে খোলার আগে পিপিআরের শর্ত মানা হয়নি- এমন অভিযোগ ঠিক নয়।
মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) খলিলুর রহমান বলেন, রেলওয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে ইঞ্জিন ব্যবহার করে আসছে, এক্ষেত্রেও একই ইঞ্জিন কেনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ৭০টি ইঞ্জিন কেনার বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনে ১ হাজার ৯৪৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। কিন্তু সময় বেড়ে যাওয়ায় এখন এ প্রকল্প শেষ করতে চাইলে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।
রেল বিভাগের তথ্য মতে, ৭০ লোকমোটিভ ইঞ্জিন কেনার দরপত্রে ইঞ্জিনের ঘূর্ণন গতিবেগ একক (আরপিএম) নির্দিষ্ট করে দিয়ে ২০ বছরের পুরনো দুই স্ট্রোকবিশিষ্ট মডেলের ইঞ্জিন কেনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের ইঞ্জিন তৈরি করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। দুই স্ট্রোকবিশিষ্ট হওয়ায় ইঞ্জিনপ্রতি বছরে ৫০ লাখ টাকার অতিরিক্ত জ্বালানির প্রয়োজন হবে। প্রকল্প গ্রহণের পরে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেবার ২৫টি কোম্পানি দরপত্র কিনলেও শর্তের কারণে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান তা জমা দেয়। তবে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৩ সালে সেপ্টেম্ব্বরে প্রথম দফা দরপত্র বাতিল করা হয়। এরপর ২০১৩ সালে অক্টোবরে দ্বিতীয় দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে আরপিএম ছাড়া আরও কিছু শর্ত দেয়া হয়। সেবার দরপত্রে অংশ নেয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠানের কারিগরি মূল্যায়ন শেষে তা-ও বাতিল করে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি)। সর্বশেষ কিছু শর্ত শিথিল করে গেল বছর ২৪ ডিসেম্বরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তিন দফা সময় বাড়িয়ে ৩১ মে দরপত্র খোলা হয়। কিন্তু এবারও সন্তোষজনক প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ করেনি শর্তারোপের কারণে। তাছাড়া দরপত্র খোলার আগের দিন অফিস খোলা রাখার শর্ত পিপিআরে উল্লেখ থাকলেও তা মানা হয়নি। সরকারি ক্রয় নীতিমালা-২০০৮ এর দরপত্র দলিল বিক্রি, প্রাক-যোগ্যতা সভা ইত্যাদি সংক্রান্ত ৯৪ ধারার ৭ উপধারায় বলা হয়েছে, দরপত্র দলিল বিক্রির সময় কোনো পূর্বশর্ত আরোপ করা যাবে না এবং দরপত্র দাখিলের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা উত্তীর্ণের পূর্বদিন পর্যন্ত দরপত্র দলিল বিক্রির অনুমতি প্রদান করতে হবে। এ বিধি অনুযায়ী ৩১ মে’র আগের দিন শনিবার হওয়ায় দরপত্র কেনার সুযোগ ছিল না।