আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পুলিশের হাতে আটক স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে থানায় গিয়েছিলেন নীতু দিবেদি নামের এক নারী। কিন্তু পুলিশের দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব।
মারা যাওয়ার আগে সাংবাদিক এবং এক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়ে গেছেন ওই নারী। তিনি বলেছিলেন,‘সবাই দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেছে। কেউ আমাকে সাহায্য করেনি। তারা(পুলিশ) এর আগেও আমাকে চার বার হয়রানি করেছে। আর পাঁচবারের সময় তারা আমার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।’
সোমবার ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাবানকি শহরের এক থানায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।
শনিবার রাতে বারাবানকি সংলগ্ন গহা গ্রামের এক গোলাগুলির ঘটনার জিজ্ঞাসাবাদের নাম করে নিতুর স্বামী রাম নারায়নকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু দু দিন ধরে তারা তাকে থানায় আটকে রাখে।স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে সোমবার থানায় যান স্ত্রী নিতু। থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাম সাহেব সিং যাদব এবং এসআই অখীলেশ রায় তার স্বামীর মুক্তির বিনিময়ে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে। তিনি তা দিতে অস্বীকার করলে তারা তার ওপর শারিরিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। তারা বলছে, নীতু ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের গায়ে নিজেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন।
তবে নীতুর স্বামী নারায়ন বলেছেন,‘ পুলিশ জানিয়েছিল আমার স্ত্রী টাকা নিয়ে এসে আমাকে ছাড়িয়ে নিতে বলেছিল। তবে তারা কত টাকা চেয়েছিল আমি তা জানি না। ঘটনার দিন আমি থানার বাইরে বসেছিলাম। হঠাৎ দেখি আমার স্ত্রী থানা থেকে দৌঁড়ে বেরিয়ে আসছে। তারা সারা গায়ে তখন আগুন জ্বলছিল।’ নারায়ন বলছেন, পুলিশই তারা স্ত্রীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।
পরে নারায়ন এবং আরো কয়েকজন মিলে নীতুকে উদ্ধার করে লক্ষণৌর এক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারতে এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। গত মাসে একই প্রদেশের শাজাহানপুর এলাকায় পুলিশের দেয়া আগুনে পুড়ে মারা গেছেন এক সাংবাদিক। অভিযোগ রয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট লেখায় তারই নির্দেশে ওই সাংবাদিকের গায়ে আগুন দিয়েছিল পুলিশ।
প্রসঙ্গত, নিহত নীতুর ছেলেও সাংবাদিক এবং একটি হিন্দি পত্রিকায় কাজ করছেন।