ঢাকা: ঈদ সামনে রেখে রাজধানী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হিজড়া বাহিনী। তাদের চার-পাঁচজনের এক একটি গ্রুপ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অফিস, বাসা-বাড়ি, এমনকি ট্রেনেও চাঁদাবাজি করছে। চাঁদার জন্য তারা চিৎকার-চেঁচামেচি, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও খিস্তি খেউর করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। প্রয়োজনে তাদের কেউ কেউ বিবস্ত্র হয় এবং এই কৌশলে টার্গেটকে নাকাল করে টাকা নিয়ে যায়। এ ছাড়া শিশু নাচানোর নাম করে বাসা-বাড়ি থেকেও জোর করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। ইদানীং তাদের মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন রাজধানীবাসী। ভুক্তভোগীরা বলছেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, যে কারণে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, হিজড়াদের টাকা তোলার বিষয়টিকে অনেকে স্বাভাবিক মনে করে থাকেন। এটি নিয়ে কোনো মামলা বা জিডি করা হয় না। মানুষ সাধ্যমতো তাদের টাকা ও বিভিন্ন মালামাল দিয়ে তাদের সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক বছর হিজড়াদের আচরণ বদলে গেছে। আগের সাহায্য চেয়ে টাকা তোলা এখন জবরদস্তি চাঁদা আদায়ে পরিণত হয়েছে। শুধু রাজধানীর বাসা-বাড়ি, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অফিস-আদালতেই হিজড়াদের চাঁদাবাজি সীমাবদ্ধ নয়, ইদানীং তারা সংঘবদ্ধভাবে চড়াও হচ্ছে চলন্ত ট্রেনেও। সিটে সিটে যাত্রীদের কাছে হাজির হয়ে তারা ১০-২০ টাকা হারে হাতিয়ে নিচ্ছে। জানা গেছে, হিজড়াদের চাঁদা তোলা সহজ তাই অনেক সক্ষম লোকও হিজড়া সেজে এই ব্যবসায় নেমেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হিজড়াদের কমবেশি উৎপাত থাকলেও খিলগাঁও তিলপাপাড়া কালভার্ট এলাকার হিজড়া সিন্ডিকেট নগরবাসীর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোটিপতি হিজড়া : হিজড়াদের মধ্যে কারও কারও রয়েছে অঢেল সম্পদ। তারা কীভাবে এসব সম্পদ গড়েছে সংশ্লিষ্টরা তার কোনো জবাব দিতে পারেনি। তবে নানা মাধ্যমে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছে অনেক হিজড়া। খিলক্ষেত এলাকায় দলনেতা নাজমার অধীনে রয়েছে ৪০ জন হিজড়া। ৩০ বছর আগে পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া হয় নাজমা। সে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে বেশ পরিচিত। তার প্রায় অর্ধকোটি টাকা বিভিন্ন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর কাছে সুদে দেওয়া আছে। খিলগাঁও তিলপাপাড়ার ময়নাও কয়েক বছরের ব্যবধানেই বিপুল অর্থবিত্তের মালিক বনে গেছে। ময়না দক্ষিণ গোড়ান সিদ্দিকবাজার এলাকায় দেখতে দেখতেই পাঁচ তলার বিরাট বাড়ির মালিক হয়ে গেলেন। কয়েক কোটি টাকা দামে আরেকটি বাড়ি ক্রয়ের জন্যও প্রস্তুত হয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে শুধু মাদক ব্যবসা চালিয়েই রেখা আক্তার ফাতেমাও খিলগাঁও এলাকায় তিনতলা অট্টালিকার মালিক বনেছেন। পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, এটা সঠিক নয়। কেউ হিজড়াদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে শক্ত কোনো অভিযোগ করেন না। অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই হিজড়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।