সিসি ডেস্ক: দপ্তরবিহীন হওয়ার পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম রাজনীতিতে থাকবেন কি থাকবেন না, এ নিয়ে এখন নানা আলোচনা চলছে চারদিকে। এর মধ্যেই গত রোববার প্রধানমন্ত্রী গণভবনে ডেকে একান্তে কথা বলেন সৈয়দ অঅশরাফের সাথে। এ বৈঠকের সময়েই প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফকে যেকোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানান বলে জানা গেছে। তবে আশরাফ এখন যেভাবে আছেন, সেভাবেই থাকতে চান বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানান। একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে শীর্ষ দৈনিক প্রথম অালো এ খবর জানিয়েছে।
কাল বুধবার আশরাফের লন্ডন যাওয়ার কথা। সরকারিভাবে তিনি ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন। পারিবারিক কাজে এ সফর হলেও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর ফেরা না-ফেরা নিয়ে দলে নানা কথা হচ্ছে। গতকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তিনি যাননি।
আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আশরাফ ভাই ঠান্ডা মানুষ। ওনাকে দেখে কিছু বোঝা যায় না। তিনি যে কী করেন, তা তিনিই ভালো জানেন। তবে দলে ওনাকে প্রয়োজন।
সৈয়দ আশরাফ দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হওয়ার পর গত তিন-চার দিনে তাঁর বাসভবনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতা, সাংসদ, সিটি করপোরেশনের মেয়র, পৌর মেয়র ও সাধারণ মানুষ তাঁর সঙ্গে দেখা করছেন। তাঁরা সবাই দলে তাঁর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। গতকাল আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য তাঁকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা তাঁকে দল থেকে দূরে সরে না যাওয়ার অনুরোধ করেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে অপসারিত হওয়ার পর তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি সৈয়দ আশরাফ। দপ্তর হারানোর দুই ঘণ্টার মধ্যে তিনি যুবলীগের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। পরদিন অফিসার্স ক্লাবে আরেক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘লাভের জন্য রাজনীতি করি না। আমার পিতা সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেইমািন করেননি। নেতার জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন। এটাই আমার রক্ত। রাজনীতি করি বা না করি, মন্ত্রী হই বা না হই, হোসেনপুরবাসীর (তাঁর নির্বাচনী এলাকা) সঙ্গে থাকব।
আশরাফের এ কথায় অভিমানের সুর খুঁজে পান আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ আশরাফ যাতে অভিমান করে দল থেকে দূরে সরে না যান, সে জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা গত তিন-চার দিনে সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেন।