সিলেট: ছেলের শোকে সমাবেশস্থলে জ্ঞান হারালেন রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান। তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১৬ নং ওয়ার্ডের ১১ নম্বর শয্যায় ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রুহুল তালুকদার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ছেলে সামিউল আলম রাজনের বর্বরোচিত হত্যার বিচারের দাবিতে সদর উপজেলার কুমারগাঁও তেমুখী পয়েন্টে ২২ গ্রামের বাসিন্দাদের ডাকা সমাবেশে হাজির হন তিনি। সমাবেশস্থলে বসে হঠাৎ দুপুর সোয়া ২টার দিকে তিনি বুকেব্যথা অনুভব করেন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাজনের বাবা। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) রাজনকে সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করে মুহিত আলম, তার ভাই সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম, আলী হায়দার ওরফে আলী ও তাদের সহযোগী চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাসহ নরপিশাচরা। হত্যার পর দুপুর পৌনে ১টার দিকে একটি মাইক্রোবাস যোগে (ঢাকা মেট্টো-চ-৫৪-০৫১৬) তার মরদেহ গুম করার চেষ্টা করা হয়। এদিন জনতা ধাওয়া করে মুহিত আলমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিহত সামিউল আলম রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান মাইক্রোচালক। দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজন বড়। অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করা রাজন সবজি বিক্রি করতো। রাজনকে নির্যাতন করে হত্যার ভিডিওচিত্র প্রকাশের পর সিলেটসহ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।