আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বের শক্তিমান দেশগুলোর সঙ্গে অবশেষে একটি চুক্তি হয়েছে। এর ফলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ উঠে যাবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আর এমন খবরে তেহরানের মানুষ রাস্তায় নেমে এসে উল্লাস প্রকাশ করেছে। ইসলামী বিপ্লবের ৩৬ বছর পর এই খুশির খবরে নেচেগেয়ে উল্লাসে মেতে উঠে ইরানিরা।
সমঝোতা চুক্তির খবরে রাতেই হাজারো ইরানি রাস্তায় নেমে আসেন। তারা রাজপথে জড়ো হয়ে বিজয় উদযাপন করে। এ সময় অনেকে নেচেগেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে।
তারা চিৎকার, হুল্লোড় আর মোটরগাড়ি চালিয়ে ভেঁপু বাজিয়ে উদযাপন করেন। বিজয়ের প্রতীক হিসেবে অনেকেই ‘ভি’ চিহ্ন দেখান।
শুধু রাজধানী তেহরান নয়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরেও ইফতারের পর মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। যোগ দেন বিজয়-উৎসবে। এ সময় অনেকে ওড়ান ইরানের জাতীয় পতাকা। উদযাপন দেখা গেছে, যোগাযোগের সামাজিক মাধ্যমেও।
অবশ্য এই চুক্তির ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপিত হবে। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র দুজনেই এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এই চুক্তির ফলে নিশ্চিত হলো যে, ইরান আর পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারছে না।
তবে চুক্তিটির কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান নেতারা। মার্কিন কংগ্রেসে এই চুক্তি অনুমোদিত হবার জন্য ৬০ দিন সময় রয়েছে।
তবে রিপাবলিকান অধ্যুষিত কংগ্রেস ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব নাকচ করে দিতে পারে যদিও তা ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
রাগত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইসরাইলের কর্তৃপক্ষও। এটাকে একটা চমকে দেয়ার মতো ভুল উল্লেখ করে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এটা পৃথিবীকে আরো বিপজ্জনক জায়গায় পরিণত করবে।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় গতকাল মঙ্গলবার চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। এতে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করবে। বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
সূত্র: বিবিসি