আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের আগ্রায় কথিত ‘লাভ জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন শুরু করেছে হিন্দুত্ববাদী বজরং দল। আজ (মঙ্গলবার) গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রচারপত্র বিলি করে হিন্দু মেয়েদের সতর্ক করে দিচ্ছে।
সোমবার আগ্রার বিভিন্ন স্কুলে বজরং দলের কর্মীরা প্রচারপত্র বিলি করে কথিত ‘মুসলিম লাভ জিহাদিদের’ সনাক্ত করা এবং তাদের হাত থেকে বাঁচার পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। গতবছরও এ সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছিল।
বজরং দলের প্রাচারিত লিফলেটে বলা হয়েছে, কিছু মুসলমান যুবক নিজের নাম গোপন করে হিন্দু নাম রাখে। এরা হিন্দু মেয়েদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। হিন্দু দেবদেবীদের ছবি সম্বলিত লকেট পরে থাকে। নিজেদের ধনী হিসেবে তুলে ধরতে তারা দামি গাড়িও ব্যবহার করে হিন্দু মেয়েদের ফাঁদে ফেলছে।
বজরং দলের উত্তর প্রদেশ শাখার আহ্বায়ক আজ্জু চৌহান নেতৃত্বে বিলি করা প্রচারপত্রে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, লাভ জিহাদের জন্য উপসাগরীয় সমস্ত দেশ থেকে টাকা পয়সা আসছে। মুসলিম যুবকদের টাকা পয়সা দিয়ে তাদের দামি গাড়ি কিনতে বলা হয় যাতে মেয়েদের সামনে নিজেকে ধনী হিসেবে পরিচিত করে তাদের আকৃষ্ট করা যায়।
প্রসঙ্গত, আজ্জু চৌহান গত ডিসেম্বরে ‘ঘর ওয়াপসি’ বা ঘরে ফেরা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। বজরং দলের পক্ষ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তর প্রদেশে ‘বহু লাও, বেটি বাঁচাও’ বা ‘বৌমা আনো, মেয়ে বাঁচাও’ অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের আওতায় মুসলিম এবং খ্রিস্টান মেয়েদের যেসব হিন্দু ছেলেরা বিয়ে করবে তাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে বজরং দলের পক্ষ থেকে। সংগঠনের পক্ষ থেকে হিন্দু পরিবারকে সচেতন করা হচ্ছে যাতে তাদের মেয়েরা মুসলিম এবং খ্রিস্টান ছেলেদের সঙ্গে প্রেম না করে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ বছর ধরে ‘লাভ জিহাদ’ শব্দের চলন শুরু হয়েছে ভারতে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে এ শব্দের প্রচলন করা হয়েছে। এতে সাধারণভাবে মনে করা হয়ে থাকে মুসলিম যুবকরা প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্য ধর্মের মেয়েদের মুসলমান তৈরি করে। যদিও ইসলামে লাভ জিহাদের মতো কোনো শব্দের অস্তিত্বই নেই।
রেডিও তেহরান