নীলফামারী : নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি সরকারী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিবাহিত ৩৬জন ছাত্রীর নামে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাত ও রাতের আধারে কলেজের লাখ লাখ টাকার মালামাল পাচার। ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহলের মোটা অংকের বানিজ্য নিয়েও তুলকালাম কান্ড চলছে। এমন কি মোটা অংকের টাকার চেক ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখান হলে আটক করা হয় অধ্যক্ষের মূল্যবান মটরবাইকটি। পরে টাকা দিয়ে অধ্যক্ষ মটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন।
অভিযোগে জানা যায়, চিলাহাটি সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ জগদীশ চন্দ্র রায় গত ১৬ জুলাই একটি মালবাহী ট্রলিতে কলেজের দুইটি লোহার গেট, পুরাতন রড, ইট-সুরকি ইত্যাদি মালামাল রাতের আধারে ভাড়া করা একটি ট্রলিতে পাচার করছিলেন। এসময় স্থানীয় জনতা এসে কলেজের ভেতরেই ট্রলিটি আটক করে। সে সময় ট্রলিচালক সজিব জানান কলেজ অধ্যক্ষ স্যার গাড়ি ভাড়া ঠিক করেছে মালামালগুলো নীলফামারী নিয়ে যাওয়ার জন্য।
এদিকে আটককৃত মালামাল ছাড়িয়ে নিতে অধ্যক্ষ একটি মহলের ছত্রছায়ায় চলে যান। মহলটি ছাত্র জনতাকে হটিয়ে দিয়ে মালামাল সহ ওই ট্রলিটি পাচারে সহায়তা করে। আর এ জন্য প্রভাবশালীদের হাতে অধ্যক্ষকে ধরিয়ে দিতে হয় নগদ ২০ হাজার টাকা ও এক লাখ টাকার ব্যাংক চেক। রাতেই মহলটি ওই এক লাখ টাকার চেকটি নগদ ৭৯ হাজার টাকায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। ঈদের ছুটির পর ২০ জুলাই ব্যাংক খুললে চিলাহাটি জনতা ব্যাংকে ওই চেক প্রত্যাখান হয়। কারন ব্যাংক এ্যাকাউন্টে ৪ হাজার ৮শত টাকা গচ্ছিত ছিল মাত্র। চেক ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখান হওয়ায় সেই দিন প্রভাবশালীদের সহায়তায় ওই দাদন ব্যবসায়ী অধ্যক্ষের বাসায় গিয়ে চেকের এক লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু অধ্যক্ষ ওই টাকা দিতে না পারায় তারা অধ্যক্ষের মূল্যবান মটরসাইকেলটি উঠিয়ে নিয়ে যায়। গত ২১ জুলাই অধ্যক্ষ এক লাখ টাকা পরিশোধ করে মটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন। ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় অব্যাহত রয়েছে।
বিভিন্ন সুত্র অভিযোগ করে জানায়, এর আগেও অধ্যক্ষ কলেজের অনেক মালামাল পাচার করেছে। কলেজ গেটের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের ৬০ হাতের দুটি টিনের ঘর ছিল। অধ্যক্ষ সেই দুটি টিনের ঘরের টিন, কাঠ, শালের খুঁটিসহ কলেজের ইট, লোহা, পানির ট্যাংকি, পানির পাম্প, আসবাবপত্র প্রভৃতি পর্যায়ক্রমে ট্রলিতে করে রাতের আধারে পাচার করেন। এ ছাড়া কলেজের ছাত্রীদের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ ৩৬ জন বিবাহিত ছাত্রীর নামে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন পর সমূদয় আতœসাত করেন। এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত হলে অধ্যক্ষের কুকর্মের আরও অনেক ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে অধ্যক্ষ জগদীশ চন্দ্র রায় সংবাদকর্মীদের বলেন, আমি বুধবার(২২ জুলাই) ঢাকায় এসেছি। ঘটনা সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ ব্যাপারে আমার কিছুই বলার নেই। আমি চক্রান্তের শিকার।