• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

তবু দেখা হয়নি মা-সন্তানের

42189_136_2903সিসি ডেস্ক: জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে বুলেটবিদ্ধ শিশুটি। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটিকে নিউনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। ডাক্তার বলেছেন, ক্ষতস্থানে যাতে ইনফেকশন না হয় এবং জন্ডিসের চিকিৎসার জন্যই আপাতত এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ দিকে শিশুটির গুলিবিদ্ধ মা নাজমা বৃহস্পতিবার ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ছুটে এসেছেন ঢাকায়। মেয়ের সান্নিধ্য পেতে সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছান। ডাক্তার বলেছেন, গর্ভের এ শিশুটির কারণেই জীবন রক্ষা পেয়েছে নাজমার। তবে জরুরি বিভাগের ডাক্তার বলেছেন, এনআইসিইউ’র ডাক্তার অনুমতি দিলেই কেবল মায়ের কোলে দিতে পারবেন শিশুটিকে। ঢাকায় পৌঁছার পর নাজমা বলেছেন, সন্তানটিকে দেখতে পেলে মরে গিয়েও শান্তি পাব।
একই হাসপাতালে, একই ছাদের নিচে, তবু দেখা হয়নি মা-সন্তানের। আলাদা আলাদা ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে তাদের। মাতৃগর্ভেই বুলেটবিদ্ধ হয়ে জন্ম নেয়া শিশুটি অবিরাম লড়ে চলেছে মৃত্যুর সঙ্গে। নানা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এমন সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যে রাতে মাগুরা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে শিশুর হতভাগ্য মা নাজমা বেগমকে। মায়ের বুকের দুধ ও স্পর্শের জাদু সন্তানকে বেঁচে থাকার শক্তি জোগাবে বলে আশা চিকিৎসকদের। কিন্তু মাগুরা থেকে ঢাকা পর্যন্ত দীর্ঘ যাত্রাপথের ধকল সামলে উঠে হাসপাতালে পৌঁছলেও আইসিইউতে ঢুকে নাড়িছেঁড়া ধনকে কোলে তুলে নিতে পারেননি মা নাজমা বেগম। ঢামেক হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এখন তার নিজেরই চিকিৎসা চলছে। কখন দেখা হবে মা-মেয়ের তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি চিকিৎসকরা।
গত ২৩ জুলাই রাতে মাগুরা শহরের দোয়াপাড়ায় দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত স্থানীয় যুবলীগ নেতা আজিবুর ও আলী হোসেনের গ্রুপ চা-দোকানি বাচ্চু ভুঁইয়ার বাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। এ সময় গর্ভবতী নাজমা আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। আবদুল মোমিন ও মিরাজ হোসেন নামে আরো দুইজনও গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল মোমিন মারা যান। গত শনিবার রাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নাজমা নবজাতক মেয়েশিশু জন্ম দেন। জন্মের আগেই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির শরীরেও গুলির ক্ষত রয়েছে। জন্মের পর দেখা যায়, শিশুটির গুলিবিদ্ধ শরীর। তার পিঠে গুলি লেগে বুকের এক পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। এ ছাড়া চোখের উপরও আঘাতের ক্ষত রয়েছে। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ২৫ জুলাই ভোরে শিশুটিকে মাগুরা থেকে এনে ঢামেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে নাজমা বেগমকে ঢাকায় পাঠানো হয়। মাগুরা সদর হাসপাতালের সার্জারি কানসালট্যান্ট ডা. সফিউর রহমান যুগান্তরকে জানান, নাজমা বেগম এখন সম্পূর্ণ আশংকামুক্ত। তবে তারও ফলোআপ চিকিৎসা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে ঢামেক হাসপাতালে পৌঁছেন গুলিবিদ্ধ শিশুর মা নাজমা বেগম ও বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া। হাসপাতালে পৌঁছেই তারা তাদের সন্তানকে দেখতে চান। কিন্তু দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটিকে তখনই তাদের দেখার অনুমতি দেননি। রাত ৯টার দিকে কেবল বাবাকে আইসিইউতে ঢুকতে দেয়া হয়। বেরিয়ে এসে বাচ্চু জানান, তিনি দেখেছেন তার সন্তান ঘুমিয়ে আছে। চিকিৎসকরা জানান, মাগুরা থেকে ঢাকা পর্যন্ত লম্বা রাস্তা পাড়ি দেয়ার ধকল সামলাতে পারেননি নাজমা বেগম। তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গাইনি বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নার্সরা মোবাইলে তোলা সন্তানের ছবি দেখিয়ে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছেন মাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ