শরীফুল ইসলাম,চাঁদপুর: চাঁদপুরের ভালো কলেজগুলোতে এবার পাশের হার মোটামুটি হলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশেষ করে গতবছর চাঁদপুর জেলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে ছিল হাজীগঞ্জ মডেল ইউনিভার্সিটি কলেজ। ওই বছর এই কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬৮ জন। অথচ এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। জেলা ও কুমিল্লা বোর্ডে টানা শীর্ষে থাকা এই কলেজে এবার ফলাফল চরম বিপর্যয় হয়েছে। গতবছর কলেজটি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সেরা ১০-এ ৪র্থ স্থান লাভ করে। এবার কলেজটিতে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবার এই কলেজে ৯০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৭৫১ জন, পাশের হার ৮৩ ভাগ।
হাজীগঞ্জ মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী বলেন, সারাদেশের প্রভাবটা কিছুটা আমার কলেজে পড়েছে। জিপিএ-৫ এতো কম পাওয়ার কারণটি খুঁজে দেখা হবে।
হাজীগঞ্জ উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৩৬ জন। এর মধ্যে ধড্ডা মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এবার চাঁদপুর জেলার ৪৮টি কলেজেরও ফলাফলের চিত্র একই। গতবছর যেখানে জিপিএ-৫ এর ছড়াছড়ি ছিল এবার অনেককেই তা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। জেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ চাঁদপুর সরকারি কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২ জন। এই কলেজে পাশের হার ৪৪.১২ ভাগ। গতবছর এই কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮ জন।
চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ জন। পাশের হার ৫৯.৮০ ভাগ। গতবছর এই কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪১ জন।
আল আমিন এমাডেমী স্কুল এন্ড কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ জন। পাশের হার ৮৪.৮৪ ভাগ। গতবছর এই কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৪ জন।
পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজে গতবছর ৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এ বছর তা শূন্য। এ বছর পাশের হার ৫১ ভাগ।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭টি কলেজের মধ্যে শুধুমাত্র গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের ১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
কচুয়া উপজেলার ৪টি কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। গতবছর এই ৪টি কলেজ থেকে ৬২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।
মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৭টি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।
মতলব উত্তর উপজেলায় ৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পায়নি।
হাইমচর ডিগ্রি কলেজের একজন মাত্র শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া ডিগ্রি কলেজে ২০ জন ও চিতোষী কলেজের ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।