বরগুনা: বাল্যবিয়েতে রাজী না হবার কারণে মারধর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে বরগুনায় বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তানজিলা নামে ১৫ বছরের এক কিশোরী। মামলার আসামিরা হলেন, কিশোরীর কুয়েত প্রবাসী বাবা জাহাঙ্গীর খান, মা হেলেনা, ভগ্নীপতি মিলন, বড় বোন জেসমিন এবং তথাকথিত ওঝা সালমা। এঘটনায় তার বড় বোন জেসমিন ও ভগ্নীপতি মিলনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের শিকার তানজিলাকে ভর্তি করা হয়েছে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তানজিলা জানিয়েছেন, তিনি গৌরীচন্না নওয়াব সলিমুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবা কুয়েত প্রবাসী জাহাঙ্গীর খান গত দু’মাস আগে বাড়ি এসে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে তাকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। অপ্রাপ্ত বয়সে তানজিলা বিয়েতে রাজী না হওয়ায় উপরোক্ত আসামিরা তাকে মারধর ও হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছেন। পরে জীবন বাঁচানোর জন্য সে তার চাচা পান্না খানের বাসায় আশ্রয় নেয়। সেখানে আশ্রয় নিয়েও রেহাই পায়নি কিশোরী তানজিলা। তাকে জিনে ধরেছে অথবা মানুষে ক্ষতি করেছে এমন অভিযোগ এনে গ্রাম্য ওঝা সালমাকে ডেকে ঝাড়-ফুঁকের নামে তার বাবার ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়েই ঝাড়-ফুঁক দেয়ার নামে অভিযুক্ত আসামিরা তাকে মারধর করে গুরুত্বর জখম করেছে। মারধরের এক পর্যায়ে তানজিলাকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালমা অভিযোগ করেন, এর আগেও একাধিকবার তাকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল তার বাবা-মা। সে সময়ও বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করে রক্ষা পেয়েছেন। তানজিলা আরো জানান, বাল্যবিয়েতে কুফল সম্পর্কে তার ধারণা রয়েছে। সে জানে বাল্যবিয়ে হলে মেয়েদের যেমন শারীরিক ঝুঁকি থাকে, তেমনি তার মানসিক বিকাশও ঘটে না। বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনাও। এ জন্য অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করতে রাজী হয়নি।বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজ হোসেন পিপিএম জানিয়েছেন, মামলার পর ওই কিশোরীর বোন এবং ভগ্নীপতিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।