• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কুড়িগ্রামে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

kurigram-flood-pic-_311818কুড়িগ্রাম: ‘বাহে বানোত ডুবি গেলং, বাড়িঘর ভাঙি যাবার নাগছে। কোনঠে উঠমো, কি করমো কাঁইয়ো আগি আসপের নাগছে না।’ অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় এবং খোলা জায়গার অভাবে ভাঙন কবলিতদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসতে না পারায় আক্ষেপ করে কথাগুলো বললেন চর পার্ব্বতীপুর গ্রামের ছকিয়ত

টানা ৩দিন ধরে চলছে ভারি বৃষ্টিপাত এবং সেই সাথে উজানে ভারত থেকে নেমে আসা অস্বাভাবিক পানি প্রবাহের কারণে কুড়িগ্রাম জেলায় এখন পানিবন্দি অবস্থা বিরাজ করছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত শতাধিক চর-দ্বীপচর ও নীচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার পয়েন্ট ২৪ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও তিস্তার পানি পয়েন্ট ৮মিটার ও ব্রহ্মপূত্রের পানি পয়েন্ট ৩৫ মিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল পর্যন্ত গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৩৯ পয়েন্ট ৬৭ মিলিমিটার।

কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইরশাদুল জানান, অবিরাম বর্ষণের ফলে যাত্রাপুরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার পরিবার। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ভাঙনের ফলে ২৯টি বাড়ী স্থানান্তরিত হয়েছে। ভাঙনকৃত পরিবারগুলো হচ্ছে, চর যাত্রাপুরের সেকেন্দার, ছকিনা, নৈবর, মহসিন, মোস্তফা, শহিদুল, বক্তার, তালেব, পাগলা, ছকিয়ত ও নুরজামাল। চর ঘনেশ্যামপুরের মজিদ আলী, গনিমন্ডল ও মজিবর। ফারাজি পাড়ার সৈয়দুল, রফিকুল ও শহিদুল। এছাড়াও কালির আলগা চরে ৩৭টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। টানা বৃষ্টি ও চর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভাঙন কবলিত পরিবারগুলো উদ্ধারের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে। এছাড়াও যাত্রাপুর বাজারের উত্তরে সদ্য নির্মিত ১ হাজার ৩ শ মিটার লম্বা সেমি বাঁধ দুধকুমর নদীর তান্ডবে ছিঁড়ে গেছে।

নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ জালাল উদ্দিন মোল্লা জানান, গত তিনদিনে চর ও দ্বীপচরের ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও সারাদিন ধরে বৃষ্টিপাতের কারণে কাউকে উদ্ধার করা যায়নি।

বন্যার পানিতে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় অনেকেই ঘরের ভেতর মাচা করে অথবা নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও বেশিরভাগ পরিবার অন্যের উঁচু করা বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে। টানা ৩দিন ধরে বৃষ্টির কারণে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, আমন ও সবজি ক্ষেত। ভেসে গেছে কয়েকশ পুকুরের মাছ। অঘোষিত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে চর-দ্বীপচরের স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে। জেলার ৭২টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভার মধ্যে প্রায় ৬০টি ইউনিয়নে পানিবন্দি অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে লক্ষাধিক মানুষ রয়েছে চরম দুর্ভোগে। খোলা স্থানের অভাবে সেনিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাফুজার রহমান জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ধরলা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ