• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ঘোষণার পরও বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ওষুধ

tabসিসি নিউজ: মেথিওনিন মিশ্রিত প্যারাসিটামলসহ বেশ কয়েকটি ওষুধ নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্রেতারা জানান, অবৈধ ওসব ওষুধে এখনও সয়লাব রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের ফার্মেসিগুলো। চাওয়া মাত্রই প্রায় সব নিষিদ্ধ ওষুধই পাওয়া যাচ্ছে বেশিরভাগ ফার্মেসিতে। প্রচার-প্রচারণা না থাকায় ক্ষতিকর এসব ওষুধ খেয়ে নিজের অজান্তেই মৃত্যু ডেকে আনছেন সাধারণ রোগীরা। এদিকে নিষিদ্ধ ওষুধের উৎপাদন ও বেচা কেনা বন্ধে ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হলেও ফার্মেসি মালিকরা বলছেন, এ বিষয়ে এখনও কিছুই জানেন না তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, মানুষ ওষুধ খায় সুস্থ থাকার জন্য। কিন্তু সে ওষুধ যদি সুস্থতার বদলে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়? প্রশ্ন শুনে অনেকের চোখ কপালে উঠলেও এমন ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। কেননা ওষুধগুলো তৈরি হয় একাধিক রাসায়নিক পদার্থের সংমিশ্রণে। যার আনুপাতিক হারে এতোটুকু হেরফের হলেই দেখা দেয় ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘ মেয়াদে যা ঘটাতে পারে মৃত্যুও। অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় প্রত্যেক দেশেই ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদনের বিষয়টি দেখভাল করে সরকারের বিশেষ একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে এ গুরুদায়িত্বটি পালন করে থাকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হলেও ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ায় সম্প্রতি অধিদপ্তরের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির ২৪৪তম সভায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে মেথিওনিন সংমিশ্রিত প্যারাসিটামলসহ বিভিন্ন কোম্পানির ৩ ধরণের ৫১টি ওষুধ। আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষণার পর মুহূর্ত থেকেই এসব ওষুধের উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবচিত্র ভিন্ন। নিষিদ্ধ ঘোষণার দেড় মাস পরেও রাজধানীর বেশিরভাগ ফার্মেসিতে চাওয়া মাত্রই পাওয়া যাচ্ছে অবৈধ ওষুধ। যা খেয়ে অজান্তেই নিজের জীবনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধগুলোর উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি বাজার থেকে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, আমাদের মাঠ পরিদর্শকদের ওষুধের দোকানগুলো পরিদর্শন করে ওষুধগুলো প্রত্যাহার করে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া ওষুধ কোম্পানিগুলোকে ওই ওষুধগুলো তৈরি করতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া বলা হয়েছে ওই ওষুধগুলো বিক্রিয় করা যাবে না। বিতরণ করা যাবে না এমনকি মজুদ করাও যাবে না।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, সরবরাহকৃত ওইসব ওষুধ প্রত্যাহার করার জন্য কোম্পানিগুলোকেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি কেউ রেজিস্ট্রিবিহীন ওষুধ তৈরি করে, বিক্রয় করে, বিতরণ করে সেই ক্ষেত্রে ১০ বছরের জেল হবে এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। এতকিছুর পরও কোনো প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ ওষুধগুলোর উৎপাদন ও বেচা কেনা অব্যাহত রাখলে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এছাড়াও নিষিদ্ধ ওষুধের বিক্রি বন্ধে ফার্মেসিগুলোতে বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন কর্মকর্তারা।
এদিকে অনুমোদন না থাকলেও রাজধানীসহ সারাদেশে অবাধে বিক্রি হচ্ছে আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি ওষুধও। দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় চোরাই পথে আসা এসব ওষুধ বিক্রি বন্ধে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেই। মাঝে মধ্যে চোরাই পথে প্রবেশকালে কিছু ওষুধ জব্দ করা হলেও এর সাথে সংশ্লিষ্ট মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে রমরমা হয়ে ওঠছে অবৈধ এ ওষুধের বাজার। ফলে একদিকে দেশের বাজারে ঢুকে পড়ছে মানহীন ওষুধ, যা ব্যবহার করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে রোগীরা। অন্যদিকে এসব ওষুধের সঠিক মূল্য না জানায় গলাকাটা দাম দিয়ে কিনছে সাধারণ মানুষ।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্যানুয়াযায়ী, গত ৬ মাসে চোরাই পথে আসা প্রায় ১০ কোটি টাকার আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্তন ক্যন্সার, শক্তিবর্ধক, হরমোন চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইনজেকশন, যৌন উত্তেজকসহ নানা ধরনের ওষুধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হরমোনের চিকিৎসায় ব্যবহার হয় অ্যানড্রোকার নামে একটি ওষুধ। ব্রিটেনের বেয়ার শেরিং ফার্মার উৎপাদিত ওষুধটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশে। থাইল্যান্ডের টি.ও. কেমিক্যালসের তৈরি পিটিইউ, নিউরোবিয়ান ইনজেকশন, আলট্রাকার্বন ট্যাবলেট, ব্রেস্ট ক্যান্সারের ওষুধ প্রিমা, এছাড়া ভারতের ম্যাকমোহন ফার্মার তৈরি টেমোলাম, উনটেক লিমিটেডের অ্যামফোকেয়ার ইনজেকশন ও সিলন ল্যাবরেটরিজের সাইটালন ইনজেকশনের রয়েছে বিপুল চাহিদা। বাজারে এগুলোর পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহও রয়েছে। ওষুধ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ায় চোরাই পথে আসছে এসব ওষুধ। চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্রে লেখায় এগুলো কিনতে বাধ্য হচ্ছে রোগিরা। আর এ সুযোগে ইচ্ছামতো দাম আদায় করছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ