রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অত্র উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৮ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ৮ হাজার মানুষের জন্য সরকারি ভাবে মাত্র ৫ মে. টন চাল, নগদ ১০ হাজার টাকা ও শুকনা খাবার বরাদ্দ এসেছে। এদিকে বন্যায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির রোপা-আমন ক্ষেত, ১০ হেক্টর জমির সবজিক্ষেত, ১৮৭০টি পুকুর, ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট পানি বন্দী ছিল। ওই ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি বন্দী ওইসব পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারি বর্ষণের ফলে অত্র উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন রাজারহাট সদর, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, বিদ্যানন্দ, নাজিমখান ও ছিনাই ইউনিয়নে বন্যায় ১৯৭৫টি পরিবারের প্রায় ৮ হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়ে। এসব পানি বন্দী পরিবারগুলোর জন্য সরকারি ভাবে মঙ্গলবার প্রথম দফায় ৫ মে. টন চাল, নগদ ১০ হাজার টাকা ও শুকনা খাবার বরাদ্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন- রাজারহাট উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ময়নুল হক। রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ ষষ্টী চন্দ্র রায় বলেন, অত্র উপজেলায় চলতি রোপা-আমন মওসুমে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা-আমনের চাষ করা হয়েছে। বন্যায় প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও ১০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশাল ক্ষতির আশংকা রয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসার মাহমুদুলনবী মিঠু বলেন, অত্র উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার পুকুরের মধ্যে ১৮৭০টি পুকুর তলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকতারি পারভীন বলেন, বন্যায় ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পানি ভরাট থাকায় সাময়িক পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি নেমে যাওয়া মাত্রই পূর্বের ন্যায় যথারীতি পাঠদান অব্যাহত থাকবে