সিসি ডেস্ক: সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের দাবিতে আন্দোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। তাদের আন্দোলনের কারণে সঠিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন সদ্য পাস করা ভর্তিচ্ছু ৭ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। মন্ত্রিসভায় ৮ম পে স্কেল অনুমোদনের পরও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, ৮ম পে স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও আমাদের দাবির ব্যাপারটি সরকার পর্যালোচনা করবে বলে শুনেছি। যদি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে তবে আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করবো। কিন্তু নেতিবাচক সিদ্ধান্ত আসলে আমরা লাগাতার কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হব। কারণ এটা গোটা শিক্ষক সমাজের মর্যাদার প্রশ্ন। তাই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আমাদের কঠোর হওয়া ছাড়া উপায় নাই। এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। আজ তারা পূর্ণ দিবস বিরতি পালন করবেন। আগামী মাস থেকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল, ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। শিক্ষকরা এভাবে আন্দোলন চালিয়ে গেলে আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া মাধ্যমিক, প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকরা নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকর আন্দোলন করার সময় ক্লাস, পরীক্ষা, একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকলে ভর্তির মওসুম হিসেবে খ্যাত এই সময়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম ভোগান্তিতে পড়বে। আন্দোলনে কারণে ঘোষিত তারিখ পরিবর্তন হয়ে যাবে। ফলে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তারিখ এক হয়ে যাবে। অনেক শিক্ষার্থী একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে না। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, শিক্ষকদের এই আন্দোলনের ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। এটি শিক্ষক ও সরকারের ব্যাপার। তবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা ভর্তি পরীক্ষার সময় আন্দোলন স্থগিত কিংবা ভর্তি পরীক্ষা আন্দোলনের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানান। শিক্ষকদের প্রাপ্য মর্যাদা এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ঘোষণার দাবিতে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গত রোববার একযোগে তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এটা শিক্ষকদের তৃতীয় দফার আন্দোলন। একই দাবিতে এর আগে আরও দুদফা আন্দোলন করেছেন শিক্ষকরা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির মোর্চা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এ বিষয়ে ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে অবনমন করে শিক্ষকদের মর্যাদাহানির বিষয় সরকারকে অবগত করতে আমরা গত ১৪ই মে থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। এর মধ্যে ছিল মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলছেন না। তাই এবার আমরা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাচ্ছি। একই সঙ্গে ১৩ই সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সমাবেশের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন।