• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

টেরাকোটা অলঙ্করণের বৈচিত্র্য কান্তজীর মন্দির

Sukumar-Kantoji Mondirসুকুমার রায়, কাহারোল (দিনাজপুর) : দিনাজপুর জেলা সদর হতে ২০ কিঃ মিঃ উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা সদর হতে ৭ কিঃ মিঃ পূর্বে সুন্দরপুর ইউনিয়নে দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমে ঢেপা নদীর তীরে টেরাকোটা অলঙ্করণের বৈচিত্র্য ইন্দো-পারস্য-ভাস্কর কৌশল ও শিল্প মহিমায় জাগানিয়া কান্তজীর মন্দির অবস্থিত।

কালিয়াকান্ত জিউ অর্থাৎ শ্রী কৃষ্ণের বিগ্রহ অধিষ্ঠানের জন্য এই মন্দির নির্মিত। এই জন্য এর নাম কান্তজীর মন্দির। কান্তজীর মন্দির যে স্থানে স্থাপিত তার নাম কান্তনগর। কান্তনগর সম্পর্কে পৌরাণিক বহু গল্প ও উপাখ্যান প্রচলিত রয়েছে। কথিত রয়েছে, মহাভারতে বর্ণিত বিরাট রাজার গো-শালা ছিল এখানে। প্রকৃতপক্ষে মন্দিরটি যেখানে তৈরী হয়েছে সেটি একটি প্রাচীন স্থান ও প্রাচীন দেওয়ালঘেরা দুর্গ নগরীরই একটি অংশ।
প্রায় ১ মিটার (৩ ফুট) উঁচু এবং প্রায় ১৮ মিটার (৬০ ফুট) বাহুবিশিষ্ট প্রস্তরনির্মিত একটি বর্গাকার বেদীর উপর এই মন্দির নির্মিত। শোনা যায়, বেদীর পাথরগুলো আনা হয়েছিল প্রাচীন বানগড় (কোটিবর্ষ দেবকোট) নগরের ভেঙ্গে যাওয়া প্রাচীন মন্দিরগুলো হতে। পাথরের ভিত্তি বেদীর উপর মন্দিরটি ইটের তৈরী। বর্গাকারে নির্মিত মন্দিরের প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ মিট (৫২ ফুট)। মন্দিরের চারিদিকে রয়েছে বারান্দা। প্রত্যেক বারান্দার সামনে রয়েছে ২টি করে স্তম্ভ। স্তম্ভগুলো বিরাট আকারের এবং ইটের তৈরী। স্তম্ভ ও পাশের দেওয়ালের সাহায্যে প্রত্যেকটি দিকে ৩টি করে বিরাট খোলা দরজা তৈরী করা হয়েছে। বারান্দার পরেই রয়েছে মন্দিরের কামরাগুলো। একটি প্রধান কামরার চারিদিকে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট কামরা। তিনতলবিশিষ্ট এই মন্দিরের নয়টি চূড়া বা রতœ ছিল। এজন্য এটিকে নবরতœ মন্দির বলা হয়ে থাকে। ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে ভূমিকম্পে মন্দিরের চূড়াগুলো ভেঙে গেছে। মন্দিরের উচ্চতা ৭০ ফুট। মন্দিরের উত্তর দিকের ভিত্তিবেদীর শিলালিপি হতে জানা যায়, দিনাজপুরের জমিদার মহারাজা প্রাণনাথ রায় (মৃত্যু ১৯২২ খৃঃ) তার শেষজীবনে মন্দির তৈরীর কাজ শুরু করেন এব তার মৃত্যুর পর তার আদেশ অনুসারে দত্তক পুত্র মহারাজা রামনাথ রায় এই মন্দির তৈরীর কাজ শেষ করেন ১৭৫২ খৃষ্টাব্দে।
ইট দ্বারা তৈরীর এই মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির চিত্রফলকের সাহায্যে রামায়ণ-মহাভারতের প্রায় সব কয়টি প্রধান কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। সে সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন কাহিনী এবং স¤্রাট আকবরের কিছু চিত্র কর্ম রয়েছে।
অতি সুন্দর ও কারুকার্যময় এই কান্তজীর মন্দির। পোড়া মাটির চিত্র ফলকের এমন সুন্দর ও ব্যাপক কাজ বাংলার আর কোন মন্দিরেই নেই। সারা উপ-মহাদেশেও আছে কিনা সন্দেহ। ঐতিহাসিক বুকানন হ্যামিলটনের মতে, এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দরতম মন্দির।
দেখার জন্য বহু দর্শনার্থী ও পর্যটক আগমন করেন এই দিনাজপুরের মাটিতে। বর্তমানে প্রায় মন্দিরটিকে সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ