• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরের পল্লীতে অসহায় গরীব পরিবারের বাড়ি ঘর ও দোকান ভেঙ্গে উচ্ছেদ

saidpur pic,13-09-2015          (1)সিসি নিউজ: সৈয়দপুরের পল্লীতে কুচক্রী প্রভাবশালীরা মাদক ও দেহ ব্যবসা করার অপবাদ দিয়ে অসহায় এক গরীব পরিবারের বাড়ি ঘর ও দোকান ভেঙ্গে উচ্ছেদ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়,পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)জায়গায় বসবাসকারী ওই পরিবারটিকে করা হয়েছে একঘরেও। ঘটনাটি উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর পাঠানপাড়া গ্রামে ঘটেছে। এদিকে, উচ্ছেদ হওয়ার পর ওই পরিবারের সদস্যরা গত কয়েকদিন ধরে পাউবোর একটি পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ঘরে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। গ্রামবাসীর দেয়া অপবাদ সহ্য করতে না পেরে লজ্জা, ঘৃনা আর ক্ষোভে পরিবারের ছোট মেয়ে কাকলী (১৪) গত এক সপ্তাহ ধরে নিরুদ্দেশ রয়েছে। নানা জায়গায় খোঁজ-খবর করেও সন্ধান মেলেনি তাঁর। আর এমন অপবাদে হায়দার আলীর বৃদ্ধা মা জোছনা বেগম (৭২) এখন শয্যাশায়ী। তাঁকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গ্রামের মৃত. আজিজার রহমানের ছেলে হায়দার আলী। তিন ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী, এক বিধবা বোন আর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে তাঁর পরিবার। পৈতৃক ভিটায় সংকুলান না হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় আশ্রয় নিয়ে ৩০/৩৫ বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি। বর্তমানে বাড়ি পাশের চা পানের দোকানের ওপর পরিবারের ছয় সদস্য নির্ভরশীল। গ্রামের ওই কুচক্রী প্রভাবশালী মহলের নজরে আসে হায়দার আলীর বাড়ির সরকারী ওই জায়গাটুকু। মাদক ও নারী ব্যবসার অপবাদ দিয়ে হায়দার আলীকে ওই সরকারী জায়গা থেকে বিতাড়িত করতে চেয়েছিল তারা। এ সময় তাঁর নামে অভিযোগ লেখে গ্রামের বিভিন্নজনের স্বাক্ষর নিয়ে থানা পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠায় তারা। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। ফলে এবার ওই স্থানে ঈদগাঁহ্ মাঠ করার ফন্দি করে গ্রামবাসীকে একত্রিত করে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়া গ্রামবাসী সাড়া দেয় তাতে। গত ৯ সেপ্টেম্বর গ্রামের কুচক্রী মহলটি পাউবোর জায়গা থেকে হায়দার আলীর পরিবারকে উচ্ছেদ করে। এ সময় বাড়ি সংলগ্ন হায়দারের চা-পানের দোকানটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। বর্তমানে পরিবারটি পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত একটি জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
হায়দার আলীর স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন,মিথ্যা অপবাদে আমার ঘরবাড়ি ও দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমার ছোট মেয়ের নামে অসামাজিক কার্যলাপের অপবাদ দেওয়ায় লজ্জায়, ক্ষোভে সে বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে গেছে। গত কয়েকদিনেও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ-খবর করে তাঁর কোন হদিস পাইনি। সে কোথায় কি অবস্থায় আছে আমরা জানি না।
তিনি জানান, এর আগে তাদের নামে থানায় অভিযোগ হলে পুলিশ এসে তদন্ত করে। তাতে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পায়নি
গত শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন,‘কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। উচ্ছেদ করার এখতিয়ারও কারো নেই। ওই স্থানে ঈদগাঁ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মো. শাহাজাদা সরকার বলেন,বিষয়টি  নিয়ে কোন কথা বলতে রাজী হননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ