• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

মিনা ট্র্যাজেডিতে রাজপুত্রের গাড়িবহরই দায়ী ?

120821_1সিসি ডেস্ক: পবিত্র মক্কার মিনায় ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন ১৫০০ জনেরও বেশি।  সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের বরাত দিয়ে ইরানের আল আলম টেলিভিশনের ওয়েব সাইট এই খবর দিয়েছে।

সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী মিনার বিপর্যয়ে ৭১৭ জন নিহত এবং আহত হয়েছে প্রায় ৯০০  হাজি। অবশ্য ইরানের হজ সংস্থা নিহতের সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৩১ জন ইরানি। আহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় হজের শেষ প্রধান আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর মারার সময় প্রচণ্ড ভিড়ে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। সড়ক নম্বর ২০৪ ও ২২৩ দিয়ে বিপুল সংখ্যক হজযাত্রী আসতে থাকলে এই মহা-বিপর্যয় ঘটে বলে দুর্যোগ বিষয়ক সৌদি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। সৌদি যুবরাজ নায়েফ এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ। তিনি বলেন, ‘হাজিরা নির্দেশাবলি অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন। খালিদ আল-ফালিহ বলেন, ‘এ ধরনের দুর্ঘটনাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। যাই হোক, এটি আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটেছে।’

লেবাননের আরবি দৈনিক আদদিয়ার লিখেছে, সৌদি রাজার ছেলের গাড়ি বহর মিনা শহরের কেন্দ্রস্থলে আসায় তীব্র ভিড়  দেখা দেয়া এবং মূলত এ কারণেই পদপিষ্ট হয়ে হজযাত্রীদের মৃত্যু ঘটেছে।

আদদিয়ার লিখেছে, শাহজাদা মুহাম্মাদ বিন সালমানের গাড়ি বহরই প্রাণঘাতী এই বিপর্যয় সৃষ্টির মূল কারণ। তার বিপুল গাড়ি বহর ও নিরাপত্তা প্রহরা মিনার প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা দখল করে নেয়। শাহজাদার সঙ্গে ছিল ২০০ সেনা ও ১৫০ পুলিশ কর্মকর্তা।

সৌদি সরকার এ বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য  হজের সময় মিনায় সালমানের সফর বা তার উপস্থিতি সংক্রান্ত খবর প্রচার নিষিদ্ধ করেছে বলে লেবাননি দৈনিকটি উল্লেখ করেছে।

কিন্তু সৌদি আরবের সরকারি কর্মকর্তারা সালমানের উপস্থিতির কারণে মিনা ট্র্যাজেডি ঘটার খবরকে ‘সঠিক নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এই বিপর্যয়ের জন্য হজযাত্রীরাই দায়ী বলে দাবি করেছেন। তাদের একজন বলেছেন, হজযাত্রীরা দিক-নির্দেশনা মেনে চললে এ দুর্ঘটনা হয়ত এড়ানো যেত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, হজযাত্রীরা যেসব সড়ক দিয়ে এসে শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর মেরে ওই এলাকা থেকে চলে যান সেইসব সড়ক দিয়ে হঠাৎ সেইসব সড়কের মধ্যে দু’টি সড়ক বন্ধ থাকায় ভিড় এড়াতে বা পালিয়ে যেতে ব্যর্থ হন হজযাত্রীরা। এ ছাড়াও পাথর মারতে আসা হজযাত্রীদের একমুখী চলাচলের একটি সড়ককে হঠাৎ দ্বিমুখী করা হয় বলে অভিযোগ শোনা গেছে।

সৌদি সরকারের হজ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে প্রায়ই হজের সময় নানা দূর্ঘটনা ঘটছে। মাত্র প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মসজিদুল হারামে একটি ক্রেন ভেঙ্গে পড়ার ঘটনায় প্রায় ১১১ জন হজযাত্রী নিহত হয়েছে। মিনায় পদপিষ্ট হয়ে হজযাত্রী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২০০৬ সালেও।

এ অবস্থায় পবিত্র হজের মত একটি আন্তর্জাতিক ও বিশ্ব-সমাবেশ আন্তর্জাতিক তথা বহুজাতিক ব্যবস্থাপনায় হওয়া উচিত বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দাবি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।

সূত্র: জিনিউজ, প্রেস টিভি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ